“প্রমাণ দিলে ইস্তফা দেব!” তৃণমূলের বিস্ফোরক অভিযোগের মুখে সরাসরি চ্যালেঞ্জ রাজ্যের সিইও-র

ভোটের মুখে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতিতে এবার সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। পূর্ব মেদিনীপুর সফরে গিয়ে তিনি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে ঘুরেছেন—তৃণমূলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার কার্যত নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মেজাজ হারিয়ে সিইও সাফ জানালেন, নিরপেক্ষতার কোনো অভাব হলে বা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি পদ ছাড়তে দ্বিধা করবেন না।

মমতার অভিযোগ ও ভাইরাল ছবি
বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি নির্বাচনী প্রচার মঞ্চ থেকে অভিযোগ তোলেন যে, সিইও যখন নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন, তখন বিজেপির নেতারাই তাঁকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। এর পরপরই তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম সফরের সময় মনোজ আগরওয়ালের ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা তপনকুমার মহাপাত্র। এই ছবিকে হাতিয়ার করেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষরা অভিযোগ তোলেন যে, কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

সিইও-র পালটা চ্যালেঞ্জ
শাসকদলের এই লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খোলেন মনোজ আগরওয়াল। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, “জেলাশাসক আমাকে বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে হাজারের ওপর লোক ছিল। ভিড়ের মধ্যে কে কার ঘনিষ্ঠ, সেটা আমি কী করে জানব? যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে ওই নেতার সঙ্গে কমিশনের বা আমার ব্যক্তিগত কোনো যোগ রয়েছে, তবে আমি আজই পদত্যাগ করব।”

দিল্লিতে নালিশ ও রাজনৈতিক তরজা
বিষয়টি কেবল মৌখিক অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সিইও-কে শোকজ করার দাবি জানানো হয়েছে। শাসকদলের দাবি, তিনি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে কমিশনের শীর্ষ পদের আধিকারিক বনাম শাসকদলের এই যুদ্ধ এক অন্য মাত্রা নিয়েছে।