ছিটকে গেল ইতালি! টানা তিনবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, ফুটবল বিশ্বে হাহাকার

ফুটবল বিশ্বকে আরও একবার স্তব্ধ করে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে গেল চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি। এবার রূপকথার প্রত্যাবর্তনের খুব কাছে এসেও শেষরক্ষা হলো না। গতকাল রাতে জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে এক রুদ্ধশ্বাস প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিল আজুরিরা। এর ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই দেশটি।
ম্যাচের উত্তেজনা ও লাল কার্ডের ধাক্কা:
ম্যাচের শুরুটা কিন্তু ইতালির দাপটেই শুরু হয়েছিল। জেনারো গাত্তুসোর কোচিংয়ে দল যখন ২০১৮ এবং ২০২২-এর দুঃস্বপ্ন কাটানোর লক্ষ্যে মাঠে নামে, তখন ১৫ মিনিটেই মোইজে কিনের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ইতালি। গ্যালারিতে তখন নীল জার্সিধারীদের উল্লাস। কিন্তু ৪১ মিনিটে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। বসনিয়ার ফুটবলার আমার মেমিককে ফাউল করায় ইতালির নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে রক্ষণাত্মক নীতি নিতে বাধ্য হয় ইতালি। সেই সুযোগে ৭৯ মিনিটে হ্যারিস তাবাকোভিচ গোল করে বসনিয়াকে সমতায় ফেরান।
টাইব্রেকারে আজুরিদের বিপর্যয়:
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকার পর খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারেনি ইতালি। গোলকিপার জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা একাধিক সেভ করে আশা জাগিয়ে রাখলেও পেনাল্টি শুটআউটে আজুরিরা ভেঙে পড়ে। ফ্রান্সেসকো পিও এসপোসিটোর শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায় এবং ব্রায়ান ক্রিস্টান্তের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, বসনিয়া তাদের প্রথম চারটি শটেই গোল করে ৪-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।
লজ্জার নতুন রেকর্ড:
২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই যেন শনির দশা লেগেছে ইতালির ফুটবলে। সেই জয়ের পর আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো নক-আউট ম্যাচ জিততে পারেনি তারা। এমনকি দল বাড়িয়ে ৪৮ করা হলেও ২০২৬ উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দর্শক হয়েই থাকতে হবে তাদের। প্রথম প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার লজ্জার রেকর্ড গড়ল আজুরিরা। ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে এটি এক বিশাল শূন্যতা।