টাটা না এলঅ্যান্ডটি—কাকে বেছে নেবে ভারত? AMCA স্টিলথ ফাইটার জেট তৈরিতে আসছে ঐতিহাসিক বদল

ভারতের আকাশপথের সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে এক অভাবনীয় রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। সূত্রের খবর, ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট’ (AMCA) তৈরির ভার এবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর পরিবর্তে কোনো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে পারে সরকার। আর এই জল্পনা ছড়াতেই দালাল স্ট্রিটে হ্যাল-এর শেয়ার দরে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। মাসের শুরু থেকে সংস্থার শেয়ারের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে।
কেন এই পরিবর্তন? প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র অধীনে অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA) এই বিমানের নকশা তৈরি করছে। এতদিন তেজসের মতো বিমানের উৎপাদনে হ্যাল ছিল প্রধান অংশীদার। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মনমোহন বাহাদুরের মতে, হ্যাল-এর কাছে ইতিমধ্যেই তেজসের বিপুল অর্ডার রয়েছে। তাই বিকল্প হিসেবে বেসরকারি ক্ষেত্রকে উৎসাহিত করা এখন সময়ের দাবি। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, এলঅ্যান্ডটি এবং ভারত ফোর্জের মতো হেভিওয়েট সংস্থাগুলি এই দৌড়ে রয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ: একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করা কামানের গোলা বা রকেট বানানোর চেয়ে অনেক গুণ বেশি জটিল। এর সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং সফটওয়্যার সেন্সরের সমন্বয় ঘটানো বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছে এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা। তবে এই প্রজেক্টের হাত ধরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় আকারের নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষক অঙ্গদ সিংয়ের মতে, বেসরকারি সংস্থাগুলো আকর্ষণীয় বেতনে হ্যাল বা এডিএ-র অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী এবং বিশ্বব্যাপী মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত অভিজ্ঞ পেশাদারদের নিয়োগ করতে পারবে, যা এই প্রজেক্টে উদ্ভাবন নিয়ে আসবে। তবে অবাস্তব কম দরে বিড (Bid) করলে প্রজেক্ট লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।