অবাঞ্ছিত চিন্তা না কি ওসিডি (OCD)? কখন বুঝবেন আপনার বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন?

আপনি কি একঘেয়ে মিটিংয়ে বসে হঠাৎ ভেবেছেন, “যদি আমি এখন চিৎকার শুরু করি তবে কী হবে?” অথবা ড্রাইভ করার সময় হুট করে মাথায় এসেছে— “যদি আমি গাড়িটা সজোরে ধাক্কা দিই?” শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই ধরণের বিরক্তিকর বা ভীতিজনক চিন্তাভাবনা আমাদের অনেকেরই হয়। মনোরোগ বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইনট্রুসিভ থটস’ বা অনুপ্রবেশকারী চিন্তা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কখন এই চিন্তাগুলো আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে?
অবাঞ্ছিত চিন্তা বনাম ওসিডি (OCD): অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান গবেষক ডাঃ নিনা হিগসন-সুইনি নিজে ১০ বছর বয়স থেকে অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডিতে (OCD) আক্রান্ত। তাঁর মতে, আমাদের মধ্যে প্রায় ৮০% মানুষ জীবনে কখনও না কখনও অবাঞ্ছিত চিন্তা অনুভব করেন। সুস্থ মানুষ সেই চিন্তাকে অদ্ভুত ভেবে একপাশে সরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু ওসিডিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই চিন্তাগুলো মনে গেঁথে যায় এবং তা প্রচণ্ড উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
বিপজ্জনক লক্ষণগুলো কী কী? গবেষণা বলছে, বিশ্বের ১% থেকে ৩% মানুষ ওসিডিতে ভোগেন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-
আবেশ (Obsessions): বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তাভাবনা আসা। যেমন— প্রিয়জনের ক্ষতি করার ভয়, নিজের যৌন অভিমুখিতা নিয়ে অহেতুক প্রশ্ন বা রোগ ছড়ানোর উদ্বেগ।
-
বাধ্যবাধকতা (Compulsions): উদ্বেগ কমাতে বারবার নির্দিষ্ট কাজ করা। যেমন— বারবার হাত ধোয়া, বারবার লক পরীক্ষা করা বা মনের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যা গণনা করা।
কখন সাহায্য নেবেন? মনোবিজ্ঞানী কিম্বারলি উইলসন জানান, যখন এই চিন্তাভাবনাগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তখনই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ওসিডি-র রোগীরা বছরের পর বছর এই সমস্যা লুকিয়ে রাখেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
মোকাবিলার উপায়: ডাঃ নিনা হিগসন-সুইনি কিছু ঘরোয়া কৌশলের কথা বলেছেন: ১. শনাক্তকরণ: যখনই এমন চিন্তা আসবে, নিজেকে বলুন— “এটি আমার চিন্তা নয়, এটি স্রেফ একটি অনুপ্রবেশকারী চিন্তা।” ২. দূরত্ব তৈরি: ওসিডি-কে নিজের সত্তা থেকে আলাদা কিছু হিসেবে কল্পনা করুন। ৩. নিজের যত্ন: সঠিক আহার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যায়াম মানসিক চাপ কমিয়ে ওসিডি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মনে রাখবেন, ওসিডি পুরোপুরি সেরে না গেলেও এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করে একদম স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।