অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যে চরম বিশৃঙ্খলা! শোকের ভিড়েই সাফ ২৫ লাখের সোনা, পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য চোরচক্র

মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা জননেতা অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণে যখন গোটা রাজ্য শোকস্তব্ধ, ঠিক সেই মুহূর্তেই বারামতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন চুরির ঘটনা। প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যখন বারামতির বিদ্যা প্রতিষ্ঠান মাঠে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় উপচে পড়ছিল, তখন সেই আবেগকে ঢাল করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি সুসংগঠিত চোরচক্র। শেষকৃত্যের জমায়েত থেকে প্রায় ১৫ জন ব্যক্তির সোনার চেইন ছিনতাই করে চোরেরা, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা।
গত ২৮শে জানুয়ারি এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অজিত পাওয়ার। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় মহারাষ্ট্রের প্রতিটি কোণ থেকে অনুগামীরা বারামতিতে ভিড় করেছিলেন। মানুষের চোখের জল আর হাহাকারের মাঝে পকেটমার ও চোরচক্র এমন সক্রিয় হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। অভিযোগ উঠেছে, ভিড়ের চাপে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন চোরেরা সুযোগ বুঝে একের পর এক ঘাড় থেকে সোনার হার কেটে নেয়।
উল্লেখ্য যে, সেই দিন বারামতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮,০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে কীভাবে ১৫ জনের গলার হার চুরি হয়ে গেল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত কিছু সচেতন নাগরিক কয়েকজন সন্দেহভাজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
বারামতি তালুকা থানা এই ঘটনায় একটি বড়সড় মামলা দায়ের করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ ইউনুস, রাজকুমার আঠাওয়ালে, এজাজ মিরাওয়ালে, মোহাম্মদ সিরাজ এবং বালু বোত্রে। পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রটির সঙ্গে আরও বড় কোনো আন্তঃরাজ্য গ্যাং যুক্ত থাকতে পারে যারা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এমন অপারেশন চালায়। শোকাতুর পরিবেশে এই ন্যাক্কারজনক চুরির ঘটনা বারামতি তথা গোটা মহারাষ্ট্রে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।