ভোট উৎসবে মেতে উঠুন! ‘মন কি বাত’-এ তরুণ ভোটারদের কী নির্দেশ দিলেন মোদী?

৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে বছরের প্রথম ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat 130th Episode) অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠানের ১৩০তম পর্বে তিনি জাতীয় ভোটার দিবস, স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার অভাবনীয় সাফল্য এবং যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্বোধন দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
গণতন্ত্রের উৎসব ও ভোটার দিবস ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল নাগরিককে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’-এর শুভেচ্ছা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, “ভোটদানই হল গণতন্ত্রের আত্মা।” প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিত কারণ এটি সরাসরি দেশ গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদী বলেন, ভোটার হওয়া জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তিনি ‘মাই-ভারত’ (MY Bharat) স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা নতুন ভোটারদের এই আনন্দকে সম্মিলিতভাবে উদযাপন করেন। ভোটার হওয়া যেন কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ না হয়ে এক উৎসবে পরিণত হয়।
স্টার্টআপ বিপ্লবে ভারত বিশ্বের তৃতীয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচলিত একটি ট্রেন্ডের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি সেই সমস্ত তরুণ উদ্ভাবকদের কুর্নিশ জানান যারা প্রথাগত চাকরির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু ভাবছেন। মোদী বলেন, “আজকের তরুণরা এমন সব অসম্ভব কাজ করে দেখাচ্ছেন, যা আজ থেকে ১০ বছর আগে ভাবাও কঠিন ছিল।” মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃষি—প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতীয় স্টার্টআপগুলি বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।
দেশজুড়ে উদ্দীপনা প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ কেবল দিল্লিতেই নয়, দেশের কোণায় কোণায় শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আইজিকেভি (IGKV) অডিটোরিয়ামে উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, মন্ত্রী রামবিচার নেতাম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সারা দেশে বিজেপি নেতা এবং সাধারণ মানুষ এই ঐতিহাসিক পর্বটি বিশেষ আগ্রহের সাথে শোনেন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা মূলত আগামী প্রজন্মের জন্য এক দিশারি হিসেবে কাজ করবে, যেখানে গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সংকল্প প্রতিফলিত হয়েছে।