রুপোর দামে আগুন! ১ বছরেই ৩০০% বৃদ্ধি, মাথায় হাত রাজস্থানের গয়না ব্যবসায়ীদের!

সোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপোর দাম। আকাশছোঁয়া দামের চোট এখন সরাসরি রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী গয়না শিল্পের ওপর এসে পড়েছে। বছরের শুরুতেই রুপোর বাজার যে স্তরে পৌঁছেছে, তাতে রীতিমতো আতঙ্কিত জয়পুর, যোধপুর এবং বিয়াকানেরের ব্যবসায়ীরা।
এক বছরে ৩০০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে যেখানে রুপোর কেজি প্রতি দাম ছিল প্রায় ৮৪,৭৯২ টাকা, ২০২৬ সালের ২৫শে জানুয়ারি সেই দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৩৫,০০০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, গয়না তৈরির মোট খরচের ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় হয় রুপোর জন্য। কাঁচামালের দাম এভাবে বাড়তে থাকায় গয়না তৈরির উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় ২৫-৩৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
সংকটে কারিগর ও ছোট ব্যবসায়ীরা রাজস্থানের এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩-৪ লক্ষ মানুষ যুক্ত। অর্ডারের পরিমাণ কমে যাওয়ায় কারিগরদের মজুরি ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। ছোট কারিগরদের পক্ষে এখন লাভজনক ব্যবসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উৎসব ও বিয়ের মরসুমে যেখানে ব্যবসার গ্রাফ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ত, সেখানে এখন তা মাত্র ১০-১৫ শতাংশে থমকে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় প্রভাব রাজস্থান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮-১০ হাজার কোটি টাকার রুপোর গয়না বিদেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু চড়া দামের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে ভারতীয় গয়না। বিদেশের অর্ডার প্রায় ১০-১২ শতাংশ কমেছে বলে খবর। ব্যবসায়ীরা এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হালকা ওজনের ডিজাইন এবং সংকর ধাতুর (Alloy) ব্যবহার বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে রুপো এখন ‘সাদা সোনা’ হিসেবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।