ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের আবহে কি বড় চমক? ইইউ নেতাদের দিল্লি সফরে মেগা বাণিজ্য চুক্তির হাতছানি!

বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল আবহে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সম্পর্কের এক নয়া দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই ইইউ-র শীর্ষ নেতৃত্ব পা রাখলেন নয়াদিল্লিতে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করার এক বড়সড় ইঙ্গিত।
১৯৬২ সালে শুরু হওয়া ভারত-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ক আজ এক পরিণত পর্যায়ে। ২০২৪ সালে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ২০ বছর পূর্ণ করেছে। বর্তমানে ইইউ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সম্পর্কের ব্যাপ্তি এখন আর কেবল পণ্য আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ নেই।
প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি—সবক্ষেত্রেই দুই পক্ষ একে অপরের বিশ্বস্ত সঙ্গী। ৬জি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে কাজ করতে ২০২২ সালে গঠিত হয়েছে ‘ভারত-ইইউ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি কাউন্সিল’ (TTC)। এমনকি ইসরো এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) মধ্যে গভীর প্রযুক্তিগত সমন্বয় মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভারত মহাসাগর থেকে গিনি উপসাগর—সর্বত্রই ভারত ও ইইউ বাহিনী যৌথ নৌ মহড়া চালিয়ে সন্ত্রাসবাদ ও জলদস্যুতা মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি, ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ (IMEC) প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হচ্ছে। শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে এই সফরে যদি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।