বাংলাদেশে স্বামী ও ৩ মেয়ে, সংসার ছেড়ে ভারতে প্রেমিকের কাছে বধূ; গ্রেফতার

প্রেম যে কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা দেশের ভৌগোলিক সীমানা মানে না—তারই যেন এক নতুন এবং চাঞ্চল্যকর উদাহরণ তৈরি হলো মুর্শিদাবাদে। ভালোবাসার টানে স্বামী ও তিন সন্তানকে একপ্রকার পেছনে ফেলে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার চেষ্টা করছিলেন এক তরুণী। তবে শেষরক্ষা হলো না। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ ও রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশের যৌথ তৎপরতায় সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেন ওই বাংলাদেশি মহিলা।
ঠিক কী ঘটেছিল সীমান্তে?
পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধৃত ওই তরুণীর নাম মানজেরা বিবি। তাঁর আসল বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ থানার নাড়ু খাকি চর এলাকায়। একদম কম বয়সে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তিনি স্বামী ও তিন কন্যা এবং এক ছয় বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে ওপার বাংলাতেই সংসার করছিলেন। সেখানে স্বামী-সন্তান নিয়ে ভরা সংসার থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের দুনিয়া তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
পুলিশের দাবি, বাংলাদেশেই সংসার করার সময় ফেসবুকের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় মানজেরার। ধীরে ধীরে সেই ভার্চুয়াল আলাপ গভীর প্রেমে গড়ায়। অভিযোগ, ডালিম নামের সেই ভারতীয় যুবকের সঙ্গে দেখা করার জন্যই শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা করেন তিনি।
বিএসএফের হাতে আটক ও গ্রেফতারি
পরিকল্পনা মতো ওপার বাংলা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে মুর্শিদাবাদে ঢোকার চেষ্টা করার সময় রঘুনাথগঞ্জের বাহুরা ঘাট এলাকায় ওই মহিলাকে সজাগ দৃষ্টিতে আটকে ফেলেন বিএসএফ জওয়ানরা। এরপর বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি রঘুনাথগঞ্জ থানাকে জানানো হয়। জওয়ানরা ওই মহিলাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
কীভাবে তিনি আন্তর্জাতিক সীমানা ও কড়া পাহারা এড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালালেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রবিবারই ধৃত মানজেরা বিবিকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক প্রেমের কাহিনি ও সীমান্ত পারাপারের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।