প্রেমানন্দের শিষ্যের মর্মান্তিক মৃত্যু! ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার CCTV ভিডিও নিয়ে তুঙ্গে রহস্য

বৃন্দাবনের বিখ্যাত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের এক শিষ্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার বড়া ঘাট রোডের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণ। ঘটনার পর তাঁকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দীপকের এই চরম পথ বেছে নেওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, এই ঘটনার একটি ভয়ংকর সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর থেকেই রহস্য নতুন মোড় নিয়েছে।

সামনে এল ছাদ থেকে পড়ার শিউরে ওঠা ভিডিও

সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, যে সময় দীপক ছাদ থেকে নিচে পড়েন, সেই মুহূর্তে রাস্তাটি দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত চলছিল। এক সাইকেল আরোহী ঠিক সেই মুহূর্তেই ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটে, যা তাঁকে ও তাঁর পিছনে থাকা অন্য একজনকে রীতিমতো চমকে দেয়। পাশ দিয়ে একটি চার চাকার গাড়িও চলে যেতে দেখা যায়। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই মারাত্মক দৃশ্যটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই দীপকের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ

পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও মৃতের পরিবার আশ্রমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। মৃত দীপকের ভগ্নিপতি সোনু প্যাটেল জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তাঁদের খবর দেওয়া হয়েছিল যে দীপক ওপর থেকে পড়ে গিয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হবে। কিন্তু পরিবারের লোকজন দ্রুত আশ্রমে পৌঁছলে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্যই তাঁদের দেওয়া হয়নি।

সোনু প্যাটেলের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে দীপক প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে দীক্ষিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। গুরু দীক্ষার পর থেকেই পরিবারের কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাতেন আশ্রমের লোকজন। এমনকি দীপকের কাছে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না বলে দাবি পরিবারের। দীপক আদতেই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি এই মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে শোকার্ত পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *