খামেনির জ্বলন্ত ছবি দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন মহিলারা! ইরানের রাজপথে বেনজির বিদ্রোহের আগুন

ইরানের রাজপথে এখন বারুদের গন্ধ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসলামি শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিচ্ছে সে দেশের নারীশক্তি। দেশজুড়ে চলা তীব্র বিক্ষোভের মাঝে এমন কিছু ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে কার্যত স্তম্ভিত বিশ্ব। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কট্টরপন্থার সব বেড়াজাল ভেঙে ইরানি মহিলারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্বলন্ত ছবি থেকে প্রকাশ্যে সিগারেট ধরাচ্ছেন। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও একে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করছেন নেটিজেনরা।

ইরানের কঠোর আইনে সর্বোচ্চ নেতার ছবি পোড়ানো বা অবমাননা করা এক গুরুতর অপরাধ। তার ওপর জনসমক্ষে মহিলাদের ধূমপান করা সেখানে সামাজিক ও আইনিভাবে নিষিদ্ধ। এই দুই নিষিদ্ধ কাজ একসঙ্গে করে মহিলারা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন—তাঁরা আর কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বিধিনিষেধ মানতে রাজি নন। তেহরানসহ একাধিক শহরে মহিলারা তাঁদের মাথার হিজাব আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছেন এবং স্লোগান তুলছেন শাসনের বিরুদ্ধে।

এই গণবিক্ষোভের শুরু হয়েছিল ডিসেম্বরের শেষ দিকে মূলত আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে। কিন্তু দ্রুতই তা সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহের রূপ নেয়। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী-জীবন-স্বাধীনতা’ আন্দোলনের রেশ এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, সাধারণ মানুষের ওপর চালানো চরম দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্ববাসীর নজর থেকে আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান কর্তৃপক্ষ। ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, তেহরানের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে।