ভোলেনাথের দর্শন পেতে পকেটে এক টাকাও লাগবে না! সোমনাথ ভ্রমণে ভক্তদের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে?

আজ ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুই দিনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সোমনাথ সফর। ৮ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এ অংশ নিতেই তাঁর এই যাত্রা। প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের বিশেষ আরতি, ওমকার মন্ত্র জপ এবং শৌর্য যাত্রায় শামিল হবেন। আপনিও যদি এই বিশেষ সময়ে বা ভবিষ্যতে সোমনাথ দর্শনের পরিকল্পনা করেন, তবে মন্দির প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মগুলি অবশ্যই জেনে রাখা জরুরি।

সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গের মহিমা: হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে সোমনাথ হলো প্রথম। চন্দ্রদেব বা ‘সোম’ স্বয়ং যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্তি পেতে এখানে শিবের আরাধনা করে শিবলিঙ্গ স্থাপন করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্র পাঠ করলে সাত জন্মের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

মন্দিরে প্রবেশের কঠোর নিয়মাবলি:

ড্রেস কোড: মন্দিরে শালীন পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। পুরুষরা ধুতি, কুর্তা বা শার্ট-প্যান্ট এবং মহিলারা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরতে পারেন। ছোট পোশাক বা মিনিস্কার্ট পরে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ইলেক্ট্রনিক গেজেট: ক্যামেরা, মোবাইল, ল্যাপটপ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস মন্দিরের ভেতর নিয়ে যাওয়া যাবে না। এগুলো বিনামূল্যে ক্লকরুমে জমা রাখা যায়।

শুদ্ধাচার: দর্শনের অন্তত একদিন আগে থেকে আমিষ বা তামসিক খাবার ত্যাগ করে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। মন্দির চত্বরে বিড়ি, সিগারেট বা পান খাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।

জুতো-চটি: মন্দিরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জুতো রেখে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হবে। এই পরিষেবাটিও বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

ভক্তদের জন্য বিশেষ সুবিধা: সোমনাথ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার এবং বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া মন্দিরের গেস্ট হাউসে থাকার জন্য অনলাইন বুকিং করা যায়। নবজাতক শিশুদের জন্য গেস্ট হাউসে আলাদা খাটের সুবিধাও দেওয়া হয়।

সময়সূচী:

দর্শন: সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা।

আরতি: সকাল ৭টা, দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৭টা।

লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো: রাত ৮টা থেকে ৯টা।