“মাথা নত করব না, লড়াই চলবেই!” শাহের ‘এপ্রিল’ হুঁশিয়ারির পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বাংলার রাজনীতির পারদ যখন চড়ছে, ঠিক তখনই দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নেতা-কর্মীদের জন্য যুদ্ধের রণকৌশল বাতলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যে এসআইআর (SIR) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ও হেনস্থার অভিযোগ উঠছে, তার মাঝেই লড়াকু মেজাজে ধরা দিলেন নেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কোনও ‘রক্তচক্ষু’ বা ‘অপশক্তি’র কাছে তৃণমূল কংগ্রেস মাথা নত করবে না।
১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালের সেই সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি লেখেন, “বাংলার উন্নয়ন ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দলের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগকেই আমি সম্মান জানাই।” তবে উৎসবের আবহের চেয়েও তাঁর বার্তায় ছিল আগামী যুদ্ধের রণধ্বনি। সম্প্রতি অমিত শাহের ‘এপ্রিল মাসের মধ্যে বিজেপি সরকার’ গড়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মমতার এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ২০টি আসনের লক্ষ্যমাত্রাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মমতা ঘোষণা করেছেন, ধমকে-চমকে তাঁর দলকে থামিয়ে রাখা যাবে না।
১৯৯৮ সালে একলা চলার পথে যে সংগ্রামের শুরু হয়েছিল, ৩৪ বছরের বাম জমানা হটিয়ে সেই তৃণমূল আজ দিল্লির দরবারেও শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ। মেঘালয় থেকে গোয়া— সর্বত্র নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের বছরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে তাঁর আপসহীন সংগ্রাম আজীবন চলবে। এসআইআর ইস্যু হোক বা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বঙ্গ সফর— সব বাধা টপকে ২০২৬-এর বৈতরণী পার করতে এখন থেকেই কর্মীদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।