পহেলা বৈশাখ নয়, ১ জানুয়ারিতেই খাতাপুজো! নতুন বছরের ভোরে বর্গভীমা মন্দিরে জনজোয়ার

বাঙালির চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ‘হালখাতা’ বা খাতাপুজো হয় পহেলা বৈশাখে। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম দিনে তমলুকের ঐতিহাসিক বর্গভীমা মন্দিরে দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। ইংরেজি নতুন বছরের শুরুর দিনেই চিরাচরিত সেই প্রথাকে যেন ছাপিয়ে গেল ১ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সদর তমলুকের এই সতীপীঠে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি এদিন অগণিত ব্যবসায়ী তাঁদের নতুন বছরের খাতা মায়ের পায়ে ঠেকিয়ে ‘খাতাপুজো’ সারলেন।
সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম এই বিভাস শক্তিপীঠ। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে দেবীর বাম পায়ের গোড়ালি বা গুল্ফ পড়েছিল। ওড়িশি স্থাপত্যের আদলে তৈরি প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার এই মন্দিরে দেবী বিরাজ করছেন উগ্রতারা রূপে। এদিন শুধু তমলুক বা পূর্ব মেদিনীপুর নয়, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি থেকেও বহু মানুষ ভোরেই পৌঁছে যান মন্দিরে। ভক্ত সীমা সামন্ত জানান, “সারা বছর যেন সবার ভালো কাটে, সেই প্রার্থনা নিয়েই মায়ের কাছে আসা।” ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী ভক্তদের ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ— এই চার বর্গ দান করেন, তাই তাঁর নাম বর্গভীমা।
ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্তের এই মন্দিরে শক্তিপুজোর আগে অনুমতি নেওয়ার এক প্রাচীন প্রথা আজও বিদ্যমান। বর্তমান আধুনিক যুগেও ইংরেজি ক্যালেন্ডার মেনে বছর শুরুর দিনে বর্গভীমার আশীর্বাদ নেওয়ার এই হিড়িক এক অনন্য সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার কারুকার্য আর গর্ভগৃহে কালো পাথরের মৃন্ময়ী মূর্তির সামনে এদিন সকাল থেকেই চলেছে পুষ্পাঞ্জলি ও বিশেষ আরতি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বাড়ে, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে।