বীরভূমে বনভোজনে পুলিশের ‘কড়া নজর’! ডিজে বাজালেই শ্রীঘর, পর্যটকদের জন্য ৯ দফা গাইডলাইন

বড়দিন থেকে ইংরাজি নববর্ষ—উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের ঢল নামে রাঙামাটির দেশ বীরভূমে। তবে এবার হুল্লোড়ের নামে অরাজকতা রুখতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। শব্দদূষণ রুখতে ডিজে (DJ) বক্সের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ৯ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনবহুল এলাকা ও পিকনিক স্পটগুলোতে নিয়ম ভাঙলে কোনো রেয়াত করা হবে না।
ইতিমধ্যেই সদাইপুর থানার পক্ষ থেকে বক্রেশ্বর জলাধারের নীল নির্জন এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক করে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে— পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে জলাশয়ের পরিযায়ী পাখিদের বিরক্ত করা যাবে না। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতন ও বোলপুর মহকুমায় অনেক আগে থেকেই ডিজে নিষিদ্ধ। এবার রামপুরহাট, মহম্মদবাজার এবং নানুর থানাও একই পথে হেঁটেছে। পিকনিক স্পটে যাওয়ার পথেই ডিজে বক্স আটকানোর জন্য পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন কেবল পর্যটক নয়, মাইক ও বক্স ব্যবসায়ীদেরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ডিজে সেট ভাড়া দিলে ভাড়াটেই নয়, দোকানদারের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। মহম্মদবাজারের ডেউচা বা ময়ূরাক্ষীর পাড়ে ডিজে বাজলে মিক্সচার মেশিন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি মোটা টাকা জরিমানা করা হতে পারে। এমনকি হিংলো নদীর পাড়ে পর্যটকদের জলে নামার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে লোকপুর থানা। প্রশাসনের এই কড়াকড়িতে আমজনতা স্বস্তি পেলেও, পিকনিক দলগুলোকে এখন থাকতে হবে অত্যন্ত সতর্ক।