“জেন জেড বিপ্লব নাকি চরম অরাজকতা?” লাদাখ ইস্যুতে সোনাম ওয়াংচুককে তুলোধোনা হিমন্তর

প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘জেন জেড’ (Gen Z) প্রতিবাদ আদতে দেশ গড়ছে নাকি সাজানো সংসার পুড়িয়ে অরাজকতা ছড়াচ্ছে—এই প্রশ্ন তুলে সরাসরি লাদাখের আন্দোলনকে বিঁধলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি লাদাখের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য তিনি জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনাম ওয়াংচুককেই সরাসরি দায়ী করেছেন। হিমন্তর সাফ কথা, ওয়াংচুক লাদাখের যুবসমাজকে ভুল পথে চালিত করে রাজ্যে অশান্তির আগুন জ্বালিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সোনাম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর তা ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। লে (Leh) শহরে বিক্ষোভকারীরা বিজেপি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, চলে দেদার ভাঙচুর ও পুলিশি সংঘর্ষ। এই হিংসায় ৪ জনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। যদিও ওয়াংচুক নিজে এই হিংসার নিন্দা করে একে ‘যুবকদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ’ ও ‘জেন জেড বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেন, কিন্তু প্রশাসনের দাবি পরিস্থিতি তাঁর উস্কানিতেই বিগড়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ, ওয়াংচুক তাঁর বক্তব্যে নেপালের ২০২৫-এর ছাত্র আন্দোলন এবং ‘আরব স্প্রিং’-এর উদাহরণ টেনে যুবকদের উত্তেজিত করেছেন। উল্লেখ্য, নেপালে জেন জেড প্রতিবাদে সরকার পতন হলেও সেখানে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই ছায়া ভারতে পড়ুক, তা চায় না দিল্লি। ফলস্বরূপ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) অধীনে গ্রেফতার করে রাজস্থানের যোধপুর জেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর কারাবাস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই চালাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি। লাদাখের ভূমিপুত্রদের চাকরি ও সংস্কৃতির লড়াই এখন দিল্লির দরবারে এক বৃহত্তর রাজনৈতিক তর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।