৫০ হাজার পড়ুয়ার জন্য পুষ্টিকর খাবার! ইসকনের মেগা কিচেন চালুর দিনে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের

শনিবার থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের ক্ষেত্রে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। কলকাতার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজন পৌঁছে দিতে তারাতলায় ইসকনের (ISKCON) মেগা কিচেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের এই অত্যাধুনিক রান্নাঘর চালুর ফলে প্রথম পর্যায়ে কলকাতার ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের সুফল পাবে।
তারাতলার মেগা কিচেন ও রান্নার আধুনিক পরিকাঠামো
উদ্বোধনের দিন সকালে একটি বিশেষ ‘যজ্ঞে’ অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি রান্নাঘরের সার্বিক পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং ইসকনের মহারাজ ও রাঁধুনিদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সাহায্যে কীভাবে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বিপুল পরিমাণ খাবার তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন তিনি। এমনকী, নিজেই হাতা-খুন্তি তুলে নিয়ে বিশাল পাত্রে মিড-ডে মিল রান্নার কাজে হাত লাগান। পাশাপাশি, স্কুলগুলিতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ বৈদ্যুতিক গাড়িরও সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মহৎ উদ্যোগে সামিল হওয়ার জন্য তিনি ইসকনকে ধন্যবাদ জানান।
মিড-ডে মিলে ডিম বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রীর সাফ জবাব
ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই গত তিন মাস ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ডিম বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল, প্রতিবাদের মুখেই সরকার মিড-ডে মিলে ডিম দিতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার তারাতলার মঞ্চ থেকে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বিরোধী দল বা কোনও গণমাধ্যমকর্মী আমাদের যা করতে বলবেন, তা আমরা করব না। বরং জনগণ যা চাইবে, আমরা সেটাই করব। রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জনগণ আমাদের ক্ষমতায় এনেছে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইসকনের খাবারে ডাল, রাজমা, সয়াবিন ও পনিরের মতো পুষ্টিকর উপাদান এবং মরসুমি ফল থাকে। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধেই সরকার আলাদাভাবে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওড়িশা সরকারও এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। বিশুদ্ধ নিরামিষ রান্নার ক্ষেত্রে ইসকনের ঐতিহ্য বজায় রেখেই সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সপ্তাহে দু’দিন আলাদাভাবে সেদ্ধ ডিম সরবরাহ করবে।
এক নজরে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি:
বাজেট বৃদ্ধি: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের জন্য মাথাপিছু প্রতি বেলার খাবারের বাজেট বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা: আগামী তিন মাসের মধ্যে এই সুবিধা আড়াই লক্ষ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা পুরো রাজ্যে সম্প্রসারিত করা হবে।
কর্মীদের সুরক্ষা: মিড-ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত পুরনো কর্মীদের কাউকে ছাঁটাই করা হচ্ছে না। বরং তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিক ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন ছাড়াও পাঁচটি স্কুলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিলের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছিল। অভিভাবক মহলের আশা, ইসকনের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সুবাদে এবার ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও সুষম পুষ্টির বিষয়টি পুরোপুরি সুনিশ্চিত হবে।