স্কুলে ৫৫ পড়ুয়া আর মাত্র ১ জন শিক্ষক! মধ্যপ্রদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ্যে

মধ্যপ্রদেশের আগর মালওয়া জেলার খেড়া মাধোপুর গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের ছবিটা দেখলে শিউরে উঠতে হয়। দুই কামরার ছোট্ট স্কুল, ৫৫ জন পড়ুয়া, কিন্তু পড়ানোর জন্য আছেন মোটে একজন শিক্ষক। কারণ? বাকি শিক্ষকদের টেনে নেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকার সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সরকারি কাজে। ফলে একাই হিন্দি, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষক ভরতকুমার জাতব।
স্কুলের ক্লাসঘরে অদ্ভুত দৃশ্য। একটি ব্ল্যাকবোর্ডকে দু’ভাগে ভাগ করে একদিকে চলছে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ, অন্য দিকে পঞ্চম। পাশের ঘরে আবার একটি বোর্ডকে তিন টুকরো করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। শিক্ষক এক ঘরে গেলে অন্য ঘরের পড়ুয়ারা চিৎকার শুরু করছে, পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। রাজ্য শিক্ষক সমিতির অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষককে বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাজে পাঠানো হয়েছে। ফলে রাজ্যের ১২ হাজারেরও বেশি এক-শিক্ষক স্কুল কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মধ্যপ্রদেশের সাক্ষরতার হার ৭৬.৭ শতাংশ থেকে কমে ৭৫.২ শতাংশে নেমেছে। যেখানে জাতীয় গড় ২৮:১, সেখানে এই রাজ্যে ৩৩ জন পড়ুয়া পিছু মাত্র একজন শিক্ষক। যদিও সরকার ৩২ হাজার নতুন নিয়োগের আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আগামী বছরের বোর্ড পরীক্ষার আগে পর্যন্ত এই শিক্ষকদের এসআইআর কাজ থেকে মুক্তি মিলবে না। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর-এর নামে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার।