সমুদ্রের নিচে ‘অদৃশ্য’ ঘাতক! চিনকে রুখতে জার্মানির সঙ্গে ভারতের মেগা সাবমেরিন চুক্তি

ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান দাদাগিরি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। ভারতের ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে জার্মানির সঙ্গে এক ঐতিহাসিক চুক্তির পথে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি। ‘প্রজেক্ট ৭৫’ (Project 75I)-এর অধীনে ভারত ছয়টি নতুন ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে এই দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছে জার্মান জায়ান্ট ‘থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ (TKMS)।

জার্মান কোম্পানির সিইও ভারতের এই প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের প্রস্তাব কেবল জাহাজ বিক্রি নয়, বরং ভারতের সঙ্গে এক দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা। এই সাবমেরিনগুলির সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন’ (AIP) প্রযুক্তি। সাধারণ ডুবোজাহাজকে অক্সিজেনের জন্য বারবার সমুদ্রের উপরিভাগে আসতে হয়, ফলে শত্রুপক্ষ সহজে শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু এই জার্মান প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় সাবমেরিনগুলো একটানা কয়েক সপ্তাহ জলের তলায় ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারবে এবং শত্রুর ওপর নিখুঁত নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে।

জার্মান সাবমেরিনগুলো বিশ্বজুড়ে তাদের ‘নিস্তব্ধতা’র জন্য বিখ্যাত। সমুদ্রের গভীরতায় এরা এতই নিঃশব্দে চলাচল করে যে শত্রুর রাডার বা সোনার (Sonar) এদের সহজে খুঁজে পায় না। টিকেএমএস-এর সিইও আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত সরকার সবুজ সংকেত দিলেই তাঁরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নির্মাণ কাজ শুরু করবেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রথম সাবমেরিনটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া যায়। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জার্মানি এই চুক্তিতে পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরেরও (Transfer of Technology) আশ্বাস দিয়েছে।