প্রেমিকাকে নিয়ে আসাই কি কাল হলো? মাথাভাঙায় ধারাল অস্ত্রের কোপে লণ্ডভণ্ড সরকার পরিবার।

উৎসবের মরশুমে শোকের ছায়া কোচবিহারের মাথাভাঙায়। বড়দিনের ভোরে যেখানে খুশির মেজাজে থাকার কথা ছিল, সেখানে ঝরল তাজা রক্ত। প্রেমঘটিত বিবাদের জেরে দুই পরিবারের ভয়াবহ সংঘর্ষে মৃত্যু হলো বাবা ও ছেলের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙার হাজরাহাট এলাকায়। মৃতদের নাম যাদব সরকার ও তাঁর বাবা মানব সরকার। এই ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাজরাহাটের বাসিন্দা ফালান শিকদারের মেয়ের সঙ্গে মৃত যাদব সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার ওই তরুণীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন যাদব। যদিও বিকেলে তরুণী নিজের বাড়িতে ফিরে যান, কিন্তু অভিযোগ— এরপরই শিকদার পরিবারের আক্রোশের মুখে পড়ে সরকার পরিবার। বুধবার রাতেই তরুণীকে তাঁর বাড়ির লোকজন মারধর করে বলে দাবি।

আজ সকালে শিকদার পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে সরকার পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, কথা বলার নাম করে যাদব ও তাঁর আত্মীয়রা আসতেই প্রায় ১৫-২০ জনের একটি দল ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাস্তার ওপরই চলে বেধড়ক মারধর ও কোপাকুপি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা যাদব ও মানব সরকারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি আহতদের কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় টহল দিচ্ছে। মৃতের পরিবারের সদস্যরা এই নৃশংস হামলার কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তরা পলাতক থাকলেও তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে মাথাভাঙা থানার পুলিশ।