“পুলিশই বলল বোমাগুলো বালতিতে তুলতে!” সিউড়িতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বোমা সরালেন রাজমিস্ত্রি, তুঙ্গে বিতর্ক

সামনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়, যে পথ দিয়ে প্রতিদিন শয়ে শয়ে খুদে পড়ুয়া যাতায়াত করে, সেখানেই পড়ে রয়েছে দু’টি তাজা বোমা! এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে বম্ব স্কোয়াড ডেকে এলাকা ঘিরে ফেলার বদলে যা ঘটল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের। বীরভূমের সিউড়ি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদারপুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাধারণ মানুষকে দিয়ে হাত দিয়ে বোমা তোলানোর অভিযোগ উঠল।
স্কুলের সামনেই মৃত্যুর হাতছানি: শুক্রবার সকালে আবদারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের ঠিক পাশেই দু’টি শক্তিশালী বোমা পড়ে থাকতে দেখেন এক ছাত্রের বাবা। মুহূর্তে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় সিউড়ি থানায়। কিন্তু পুলিশের ভূমিকা দেখে স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বোমা উদ্ধারের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়নি।
“আমি রাজমিস্ত্রি, পুলিশ নই!” বোমা উদ্ধারের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল। তিনি বলেন, “পুলিশ ভ্যান আসার পর পুলিশকর্মীরা আমাকেই বললেন বোমা দু’টো তুলে নিতে। পাশের বাড়ির লোক বালতি এনে দিল, আর আমি হাত দিয়ে তুলে তাতে ভরলাম। ভয় লাগছিল ঠিকই, কিন্তু পুলিশের নির্দেশ অমান্য করি কী করে? আমি তো সামান্য রাজমিস্ত্রি, পুলিশ নই!” একই সুর অন্য বাসিন্দা পাপু মণ্ডলের গলাতেও। তিনি জানান, আজ বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছে স্কুলপড়ুয়ারা।
বারবার বোমা উদ্ধার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: উদ্বেগের বিষয় হলো, গত এক মাসের মধ্যে আবদারপুর এলাকা থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাজা বোমা উদ্ধার হলো। স্থানীয়দের দাবি, বারবার বোমা মিললেও প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়াতে দেখা যায়নি। কোনো রকম সুরক্ষা বলয় তৈরি না করে বা নিয়ম না মেনে সাধারণ মানুষকে দিয়ে এভাবে বোমা সরানোয় বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তের আশ্বাস পুলিশের: পুলিশের উপস্থিতিতে কেন নিয়ম ভেঙে সাধারণ মানুষকে দিয়ে বোমা তোলা হলো, তা নিয়ে বীরভূম জেলা পুলিশ মহলে অস্বস্তি বেড়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের এই ‘নিরাপদ দূরত্ব’ বজায় রাখার নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।