“নাগরিকত্বের নামে ডাকাতি করেছে বিজেপি!” ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ল মতুয়ারা

নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি কি তবে নিছকই এক মরীচিকা ছিল? খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। ক্ষোভে ফেটে পড়ে মতুয়া নেতৃত্বের একাংশ সরাসরি তোপ দেগেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁদের বিস্ফোরক দাবি— “বিজেপি শুধু মিথ্যে বলেনি, মতুয়া সমাজকে ডাকাতির মতো করে লুট করেছে।”

শান্তনু ঠাকুরের দিকে উঠছে আঙুল: এই তীব্র অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতেই ভরসা রেখেছিলেন মতুয়ারা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নাগরিকত্ব পাওয়া তো দূরের কথা, খসড়া ভোটার তালিকা থেকেই বহু মানুষের নাম গায়েব হয়ে গেছে। তাঁদের অভিযোগ, “সবকিছুই হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের নজরদারিতে এবং তাঁর আশ্বাসের ভিত্তিতে। এখন এই দায় তিনি এড়াতে পারেন না।”

ভোটের পর কি ব্রাত্য মতুয়ারা? মতুয়া সমাজের একাংশের দাবি, নাগরিকত্বের নামে শুধু ভোট আদায় করা হয়েছে। তাঁদের গণতান্ত্রিক পরিচয় এবং সম্মান— দুই-ই এখন সংকটে। অভিযোগ উঠছে যে, রাজনৈতিক স্বার্থে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে ভয় দেখিয়ে এতকাল ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাঁদের। এক মতুয়া কর্মীর প্রশ্ন, “এত বছর ধরে নাগরিকত্বের স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিল, আর এখন আমাদেরই কি অপরাধী বা অনুপ্রবেশকারী বানানোর চেষ্টা হচ্ছে?”

বিজেপির সাফাই ও রাজনৈতিক জটিলতা: যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিকে স্রেফ একটি “প্রশাসনিক প্রক্রিয়া” বলে লঘু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, এটি কোনও সাধারণ ভুল নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। মতুয়াদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্কের এই ক্ষোভ পদ্ম-শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিচয় ও সম্মানের লড়াই: মতুয়া নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, নাগরিকত্ব তাঁদের কাছে শুধু একটি কাগজ নয়, এটি তাঁদের অধিকার ও সম্মানের প্রশ্ন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে যদি তাঁদের গণতান্ত্রিক পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব ব্যালট বক্সেই দেওয়া হবে।

নাগরিকত্বের নামে “ডাকাতি” এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।