পহেলগাম গণহত্যার মূল পান্ডা পাকিস্তান! ১,৫৯৭ পাতার চার্জশিটে লস্কর কমান্ডারের কুৎসিত ষড়যন্ত্র ফাঁস করল NIA

গত ২২ এপ্রিল পহেলগামের সেই রক্তঝরা দিনটির কথা আজও ভোলেনি দেশ। ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই নৃশংস জঙ্গি হামলার আট মাস পর ১,৫৯৭ পাতার দীর্ঘ চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই চার্জশিটে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই গণহত্যার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং তাদের ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)।
মাস্টারমাইন্ড সাজিদ জাট: NIA-র চার্জশিট অনুযায়ী, পহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হলেন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সাজিদ জাট। গোয়েন্দাদের দাবি, সাজিদ বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে লস্করের সদর দফতর থেকেই কাশ্মীরের জঙ্গি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। ২০২২ সালেই তাঁকে ইউএপিএ (UAPA) আইনের আওতায় ‘ব্যক্তিগত সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করা হয়েছিল।
চার্জশিটে তিন ঘাতক ও আশ্রয়দাতাদের নাম: চার্জশিটে নির্দিষ্টভাবে তিন পাকিস্তানি জঙ্গির নাম উল্লেখ করা হয়েছে— সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানি। গত জুলাই মাসে শ্রীনগরের কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এই তিন ঘাতক নিকেশ হয়েছে। এ ছাড়াও চার্জশিটে নাম রয়েছে পারভেজ আহমেদ ও বশির আহমেদের। এই দু’জন ওই পাকিস্তানি জঙ্গিদের গোপন আশ্রয় ও রসদ জুগিয়েছিল বলে জানিয়েছে NIA।
ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর? NIA স্পষ্ট করেছে যে, সাজিদ জাট শুধু পহেলগাম হামলাই নয়, ২০২৩ সালের ধাংরি গণহত্যা এবং ২০২৪ সালের রিয়াসি বাস হামলার মতো বড় সব নাশকতার মূল কান্ডারি। বিদেশের মাটিতে বসেই কাশ্মীরের যুবসমাজকে ভুল পথে চালিত করা এবং হাইব্রিড জঙ্গিদের অস্ত্র ও অর্থ জোগান দেওয়ার গুরুদায়িত্ব রয়েছে তাঁর ওপরেই।
কঠোর ধারায় মামলা: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ইউএপিএ (UAPA) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই চার্জশিট জমা পড়ার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের মুখোশ আবারও একবার খুলে গেল।