“আমাকে তো কেউ জানায়নি!” নিজের এলাকাতেই ব্রাত্য বিধায়ক? তৃণমূলের ‘ঐতিহাসিক’ সভা ঘিরে বিস্ফোরক মনোরঞ্জন ব্যাপারি।

নিজের বিধানসভা এলাকাতেই দলের “ঐতিহাসিক” জনসভায় ব্রাত্য থাকলেন বিধায়ক? হুগলির বলাগড়ে তৃণমূলের এক বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে এল শাসকদলের অন্দরের তীব্র সমন্বয়হীনতা। খোদ এলাকার বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারিকে না জানিয়েই জনসভার আয়োজন করায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা।
ফেসবুকে বিস্ফোরক বিধায়ক: বৃহস্পতিবার বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রের একতারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জেলার একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে দেখা মেলেনি বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারির। ঘটনার পরেই একটি ফেসবুক পোস্ট করেন তিনি। সেখানে ক্ষোভের সুরে লেখেন— তিনি বর্তমানে বিধানসভার কমিটির সফরে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় রয়েছেন। অথচ তাঁরই এলাকায় এত বড় সভা হয়ে গেল, কিন্তু কেউ তাঁকে আগাম জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি!
“জানলে ট্যুর বাতিল করে যেতাম”: মনোরঞ্জন বাবু তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানান, “কেউ জানালে হয়তো আমিও কমিটির ট্যুর বাতিল করে ওখানে পৌঁছে যাবার চেষ্টা করতাম।” যদিও সভা সফল হওয়ায় তিনি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু তাঁর লেখার প্রতিটি ছত্রে একাকীত্বের বেদনা এবং দলের একাংশের প্রতি ক্ষোভ স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
কোন্দল না কি সমন্বয়হীনতা? বলাগড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগেও একাধিক ইস্যুতে সরব হয়ে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন এই সাহিত্যিক-বিধায়ক। এবার জেলা স্তরের নেতাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বিধায়ককে এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— তবে কি ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে ‘সাইডলাইন’ করা হচ্ছে?
বিরোধীদের কটাক্ষ: এই ঘটনায় হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধীরাও। বিজেপি ও বামেদের দাবি, যে দলে বিধায়কের কোনো সম্মান নেই, সেই দল সাধারণ মানুষের সম্মান কী করে রক্ষা করবে? সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই পোস্ট ঘিরে বইছে কমেন্টের বন্যা। কেউ বিধায়কের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।
বলাগড়ের এই ‘ঐতিহাসিক’ সভা কি তবে তৃণমূলের নতুন কোনো ফাটলের ইঙ্গিত? এখন দেখার, নবান্ন বা কালীঘাট থেকে এই ড্যামেজ কন্ট্রোলে কোনো বার্তা আসে কি না।