বঙ্গোপসাগরে ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! মাঝসমুদ্রে আটক ২ বাংলাদেশি ট্রলার, ৩৫ জন জেলের নেপথ্যে কি গভীর ষড়যন্ত্র?

উত্তর বঙ্গোপসাগরে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (EEZ) ফের অনুপ্রবেশের ঘটনা। এবার বেআইনিভাবে মাছ ধরার অভিযোগে দুটি বাংলাদেশি ট্রলারসহ ৩৫ জন নাবিককে আটক করল ভারতীয় কোস্ট গার্ড। ১৬ ডিসেম্বর গভীর সমুদ্রে টহল দেওয়ার সময় কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘অনমল’ ভারতের জলসীমার অনেকটা ভেতরে এই অনুপ্রবেশকারীদের হাতেনাতে ধরে ফেলে।
৫০০ কেজি মাছ ও জালের আড়ালে অন্য ছক? আটক ট্রলার দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি তাজা মাছ এবং আধুনিক মৎস্য শিকারের সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছে। তবে কোস্ট গার্ডের দাবি, ধৃতদের কারও কাছেই ভারতের জলসীমায় প্রবেশ বা মাছ ধরার কোনো বৈধ নথি ছিল না। ধৃত ৩৫ জনকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মেরিন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ১৯৮১ সালের ‘মেরিটাইম জোনস অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিসংখ্যান দিচ্ছে অশনি সংকেত: গত তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে অনুপ্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই শতাধিক বাংলাদেশি নাবিককে ভারতের জলসীমায় আটক করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের চাঞ্চল্যকর দাবি— এটা কি ‘গ্রে-জোন অ্যাক্টিভিটি’? দিল্লির গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বারবার অনুপ্রবেশ স্রেফ পথ ভুলে আসা নয়। এর পেছনে থাকতে পারে পরিকল্পিত ‘গ্রে-জোন’ কৌশল।
** sovereignty চ্যালেঞ্জ:** সামরিক সংঘাত এড়িয়ে সাধারণ জেলেদের ব্যবহার করে ভারতের সার্বভৌমত্বকে পরীক্ষা করা।
টহল নজরদারি: কোস্ট গার্ডের টহল দেওয়ার ধরন এবং নজরদারি ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা।
ভারত-বিরোধী আবেগ: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই আটককে ‘ভারতীয় হয়রানি’ হিসেবে প্রচার করে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদী হাওয়া তোলা।
কূটনৈতিক সংকট: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ এবং সামুদ্রিক সীমার সুরক্ষায় ভারত কড়া অবস্থান বজায় রাখলেও, মাছ ধরার আড়ালে এই ‘উপকূলীয় রাজনীতি’ নয়া কূটনৈতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তায় এই অনুপ্রবেশ কি বড় কোনো বিপদের সংকেত? নজর রাখছে নবান্ন ও নয়াদিল্লি।