১০০ দিনের কাজ অতীত, আসছে ‘জি রাম জি’! মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ কেন? মোদি সরকারের নয়া চালে রণক্ষেত্র সংসদ।

গত ২০ বছর ধরে গ্রামীণ ভারতের কোটি কোটি মানুষের অন্ন সংস্থানের একমাত্র ভরসা ছিল মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন বা মনরেগা (MGNREGA)। তবে এবার সেই ইতিহাসের পাতায় ইতি টেনে বড়সড় বদল আনতে চলেছে মোদি সরকার। সংসদে পেশ হয়েছে নতুন বিল— ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে ‘ভিবি জি রাম জি’ (VB G RAM G)।কী কী বদলাচ্ছে? এক নজরে MGNREGA বনাম G RAM G:বৈশিষ্ট্যপুরনো আইন (MGNREGA)নতুন প্রস্তাব (G RAM G)কাজের দিনবছরে ১০০ দিনবাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছেনামমহাত্মা গান্ধীর নামে‘বিকশিত ভারত’ ও ‘রাম জি’ নাম যুক্তখরচ ভাগাভাগিমজুরির ১০০% দিত কেন্দ্রকেন্দ্র ৬০%, রাজ্যকে দিতে হবে ৪০%কাজের সময়সারা বছর চাহিদা অনুযায়ীচাষের মরশুমে বছরে ৬০ দিন কাজ বন্ধ থাকবেউদ্দেশ্যশুধু অদক্ষ শ্রম ও মজুরিস্থায়ী সম্পদ ও পরিকাঠামো তৈরিরাহুল গান্ধীর তোপ: “গান্ধীর আদর্শে আঘাত”নতুন বিল নিয়ে সবচেয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, স্রেফ মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলতেই এই কারসাজি। তিনি দাবি করেন, “রাজ্যগুলোর ওপর ৪০ শতাংশ খরচের বোঝা চাপিয়ে আসলে এই প্রকল্পটাকেই বন্ধ করার ছক কষছে কেন্দ্র। রাজ্যগুলোর কাছে এত টাকা নেই, ফলে গ্রামের গরিব মানুষ কাজ পাবেন না।”সরকারের যুক্তি: স্থায়ী সম্পদ হবেইকেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পুরনো প্রকল্পে শুধু গর্ত খোড়া আর মাটি কাটাই হতো, যা বর্ষায় ধুয়ে যেত। নতুন ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে জল সংরক্ষণ, গুদাম নির্মাণ এবং গ্রামীণ রাস্তার মতো স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে। এছাড়া কাজ শেষ হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কড়া আইনি গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে এই বিলে।বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু:বিরোধীদের প্রধান আশঙ্কা, রাজ্যগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়লে তারা প্রকল্পটি চালানোয় অনীহা দেখাবে। এছাড়া চাষের মরশুমে ২ মাস কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে গ্রামীণ শ্রমিকদের আয়ের ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।লোকসভায় বিলটি পাশ হলেও রাজ্যসভাতে এটি কতটা বাধার মুখে পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। গ্রামীণ ভারতের এই লাইফলাইন কি সত্যিই ‘বিকশিত’ হবে, না কি অধিকার হারাবেন শ্রমিকরা? বিতর্ক তুঙ্গে।