ভোটের আগেই মালদহে বড় রদবদল! কার্তিককে সরিয়ে চেয়ারে নতুন মুখ, কেন এই সিদ্ধান্ত মমতার দলের?

বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল সেরে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস। পুরাতন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান পদে আনা হলো অভিজ্ঞ মুখ বিভূতি ঘোষকে। বুধবার এক টানটান উত্তেজনার আবহে বিশাল পুলিশি পাহারায় পুরসভায় আয়োজিত বৈঠকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

কেন এই পরিবর্তন? রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১-এর বিধানসভা এবং সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে এই পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। সেই ‘ব্যর্থতা’র দায় কাঁধে নিয়েই গত ২৫ নভেম্বর ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বিদায়ী চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। আজ তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বিভূতি ঘোষের নাম প্রস্তাব করলে কাউন্সিলররা তা সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন করেন।

কোন্দল না কি উন্নয়ন? তবে এই নির্বাচন ঘিরে দলের অন্দরে সুর চড়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণার মাঝপথেই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেই বলেন, “যা বলার জনসাধারণ বলবে।”

অন্যদিকে, বিভূতি ঘোষের অনুগামীরা বাজি ফাটিয়ে উল্লাস শুরু করলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিদায়ী চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,

“যাঁরা আজ বাজি ফাটাচ্ছেন, তাঁরা যেন বিধানসভা ভোটে নিজেদের ওয়ার্ডে জেতার পর বাজি ফাটান। দলের নির্দেশ মেনে আমি ইস্তফা দিয়েছি, আগামী দিনেও দলের অনুগত হয়েই থাকব।”

নতুন চেয়ারম্যানের লক্ষ্য: শপথ গ্রহণের পর অভিজ্ঞ বিভূতি ঘোষ বলেন, “আমি আগেও দু’বার পুরপ্রধান ছিলাম। আমার লক্ষ্য হবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করা। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে এখান থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে লিড দেওয়া সম্ভব।”

এখন দেখার, এই নেতৃত্বের পরিবর্তন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।