মহুয়া থেকে রচনা, সাংসদদের ব্যক্তিগত আচরণে লাগাম টানলেন অভিষেক! জারি হলো নয়া নির্দেশিকা

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে একদিকে যখন রাজনীতির পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই তৃণমূল সাংসদদের একাংশের ব্যক্তিগত আচার-আচরণ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে জোড়াফুল শিবিরে। কখনও বিজেপি নেতার বাড়ির বিয়েতে নাচ, আবার কখনও সংসদের অন্দরে ই-সিগারেট খাওয়া— একের পর এক বিতর্কে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছে নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে দলের সাংসদদের কার্যত ‘সেন্সর’ করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের নজরে মহুয়া ও রচনা সূত্রের খবর, সম্প্রতি শিল্পপতি তথা বিজেপি সাংসদ নবীন জিন্দলের মেয়ের বিয়েতে মহুয়া মৈত্রর নাচের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে কঙ্গনা রানাউতের মতো বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে মহুয়ার উপস্থিতি ভালো চোখে দেখছে না দল। অন্যদিকে, হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি না নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া এবং এক বর্ষীয়ান সাংসদ বিনা অনুমতিতে শরদ পওয়ারের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিষেক।

কড়া বার্তার মূল পয়েন্টগুলি:

অনুমতিহীন সাক্ষাৎ নয়: দলের অনুমতি ছাড়া বিরোধী দলের নেতা বা মন্ত্রীদের কোনও ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে যাওয়া যাবে না।

মন্ত্রীদের দরবার: কোনও প্রকল্পের প্রয়োজনে মন্ত্রীদের কাছে দরবার করতে হলেও আগে দলকে জানাতে হবে।

সংসদে শৃঙ্খলা: সংসদের ভেতরে বা বাইরে ধূমপান বা ই-সিগারেটের মতো আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা দলের সম্মানহানি করে।

উন্নয়ন ইস্যুতে জোর দেওয়ার নির্দেশ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি, সংসদীয় কাজে সাংসদদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক। বাংলা তথা কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বঞ্চনা নিয়ে মোদী সরকারকে আরও বেশি করে কোণঠাসা করার নির্দেশ দেন তিনি। তবে সংসদে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংসদদের পারফরম্যান্সে তিনি যে খুশি, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দল কোনোভাবেই ‘শৃঙ্খলার প্রশ্নে’ আপস করতে রাজি নয়। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্ক বনাম দলীয় আনুগত্যের লড়াইয়ে এবার রাশ টানলেন খোদ অভিষেক।