‘বিদেশি শক্তি’র দিকে আঙুল, র-এর বিরুদ্ধে ইঙ্গিত! ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জল্পনা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী বন্দুকবাজ কায়সার ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতে পালিয়ে গিয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তাঁর দাবি, বর্তমানে অভিযুক্ত ফয়সাল আসামের গুয়াহাটি শহরে লুকিয়ে আছে।
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের সাহায্য করছেন আওয়ামি লিগের নেতা জাহাঙ্গির কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মহম্মদ মাসুদুর রহমান বিপ্লব। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে ঢাকা পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী ভারতে গিয়েছে বলে তাদের কাছে কোনও নিশ্চিত খবর নেই।
এদিকে, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল যে আওয়ামি লিগ ঘনিষ্ঠ এবং ২০১৯ সালের ছাত্র লিগ কমিটিতে ছিল, এমন দাবিও উঠেছে। এমনকি, সে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয়কারী দলেও ছিল। এহেন ফয়সালকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন। ফয়সাল যাতে সীমান্ত পার করে অন্য দেশে পালাতে না পারে, তার জন্য সীমান্তে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা পুলিশ জানাচ্ছে, ফয়সাল করিম বারবার নিজের অবস্থান এবং সিম কার্ড পরিবর্তন করছেন, যার ফলে গোয়েন্দারা তাঁর নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করতে পারছেন না। পুলিশ এখনও তাঁকে ধরতে ব্যর্থ। যে বাইকে করে এসে হাদির ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, সেই বাইক চালকের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে, তবে চালককে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। সব মিলিয়ে, এই মামলায় পুলিশের নজরে ৩-৪ জন সন্দেহভাজন রয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের জল্পনাও শুরু হয়েছে। হাদির বোন মাহফুজা সরাসরি ভারতের ‘র’ (RAW)-এর দিকে আঙুল তুলেছেন। এনসিপি নেতা সারজিস আলমও ইঙ্গিত দেন যে ভারত বিরোধী হওয়ার কারণেই হাদির বিরুদ্ধে এই হামলা হতে পারে। ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম আবার দাবি করেন, ‘বিদেশি শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে।’ এর মাঝেই হামলাকারীর ভারতে পালানোর দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।