‘জুলাই বিপ্লবকে শেষ করে দিচ্ছি!’ জামাত-বিএনপি-এনসিপি-র কাজিয়া থামাতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন ইউনুস, ঐক্য ফেরানোর চেষ্টা ব্যর্থ?

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের একাধিক ‘বিপ্লবী নেতা’ কার্যত আতঙ্কিত। ইউনুস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দাবি, এই হামলার মাধ্যমে ‘জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি’ দেশকে মেধাহীন করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে এবং এই হিট লিস্টে আরও অনেকেই রয়েছেন।

আজ বাংলাদেশে যখন বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হচ্ছে (যেদিন ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল), ঠিক তখনই এমন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি হাদিকে হত্যার মাধ্যমে দেশকে মেধাহীন করতে চাচ্ছে। এই ধরনের ষড়যন্ত্রে আরও অনেকেই হিট লিস্টে রয়েছেন।” ওসমান হাদি আরও বলেন, একাত্তরে যেমন হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়েছিল, এবারও দেশবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী শক্তি পরাজিত হবে।

এদিকে, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরও ‘হিট লিস্টে আরও অনেকে’ থাকার বড় দাবি করেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ওসমান হাদির ওপর এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি হিট টিমের একইরকম ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” সায়েরের গুরুতর অভিযোগ, ওসমান হাদির হামলাকারী বন্দুকবাজ কায়সার ভারতে পালিয়ে গিয়েছে এবং ভারতে আওয়ামি লীগের নেতারা তাকে সাহায্য করছেন।

ওসমান হাদির ওপর হামলার পর জামাতের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল বিএনপি। এই আবহে দলগুলোর মধ্যেকার টানাপোড়েন থামাতে বিএনপি, জামাত ও এনসিপিকে নিয়ে বৈঠক ডাকেন ইউনুস। সেই বৈঠকে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “দলগুলোর টানাপোড়েনে আমরা জুলাই বিপ্লবকে শেষ করে দিচ্ছি।” যদিও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। তবে বৈঠকের পরও এই দলগুলির মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানো অব্যাহত রয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01