ইন্ডিগো-বিপর্যয়ে বড় ঘোষণা! চরম দুর্ভোগের শিকার যাত্রীদের জন্য ₹১০,০০০ টাকার ট্র্যাভেল ভাউচার, কারা পাবেন এই ক্ষতিপূরণ?

ডিসেম্বরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগো বিপর্যয়ের (IndiGo Crisis) কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বিমান বাতিল, ক্রু সদস্যদের ঘাটতি এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে থাকার মতো ঘটনায় মারাত্মক বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও, এর জেরে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য ১০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘ট্র্যাভেল ভাউচার’ (IndiGo vouchers) ঘোষণা করেছে সংস্থা।

ইন্ডিগোর তরফে জানানো হয়েছে, বিমান বাতিলের কারণে যে সকল যাত্রীরা ‘গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছেন, কেবল তাঁদেরকেই এই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যদিও কাদের এই ক্যাটাগরিতে ধরা হবে এবং কীভাবে তাঁদের চিহ্নিত করা হবে, সেবিষয়ে সংস্থা নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।

ট্র্যাভেল ভাউচার ও রিফান্ডের সুবিধা
বিমান সংস্থার দাবি, যে সকল বিমান বাতিল হয়েছিল সেগুলির টিকিটের রিফান্ড ইতিমধ্যেই যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যারা দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে আটকে পড়েছিলেন, অথবা বিশৃঙ্খলার কারণে অতিরিক্ত সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের জন্য আলাদাভাবে ১০ হাজার টাকার ট্র্যাভেল ভাউচার দেওয়া হবে। এই ভাউচারটি আগামী ১২ মাসের মধ্যে যে কোনও ইন্ডিগো ফ্লাইটে (IndiGo Crisis) ব্যবহার করা যাবে।

ইন্ডিগো (IndiGo flight cancellations) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “৩, ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর কিছু যাত্রী দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে ছিলেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাঁদের জন্যই এই অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ।”

সংস্থা আরও জানিয়েছে, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যেসব যাত্রীর বিমান উড়ানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগেই ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন ঘোষিত ক্ষতিপূরণ (₹১০,০০০ ভাউচার) তার বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেওয়া হবে।

কেন এই সংকট? কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ
ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম ইন্ডিগো সাধারণত প্রতিদিন ২,৩০০টির মতো উড়ান চালায়। কিন্তু গত সপ্তাহে কর্মীসংকট এবং নতুন নিরাপত্তা নিয়ম মানতে গিয়ে পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে না পারার কারণে উড়ান পরিচালনায় বিপর্যয় দেখা দেয়। এই সংকটের কারণে দৈনিক উড়ানের সংখ্যা ১,৫০০ পর্যন্ত নেমে এসেছিল।

ইন্ডিগো বিপর্যয়ে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করেছে। বিমানের সংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংকটের কারণ জানতে চেয়ে ডিজিসিএ (DGCA) ইন্ডিগোকে শোকজ করেছিল। সংস্থার জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আজই সিইও পিটার এলবারস্কে জরুরি নথি-সহ হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে।