ভোটার তালিকা সংশোধনী মামলায় বিহারের নজির টানলেন প্রধান বিচারপতি, ‘নাম বাদ পড়া নিয়ে কেউ আপত্তি করেনি কেন?’

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Summary Revision বা SIR) নিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হলো। এই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কেরলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হয়ে সওয়ালকারী আইনজীবী কপিল সিবালের কাছে বিহারের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, যেখানে সম্প্রতি ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিহারের দৃষ্টান্ত
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন তোলেন, বিহারেও একই সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ভোট হয়ে যাওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রায় কোনও আপত্তি ওঠেনি। প্রধান বিচারপতি মৌখিকভাবে বলেন, “বিহারের ক্ষেত্রেও যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা তো কেউ আপত্তি জানাননি। সেই রাজ্যে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে ভোটও হয়ে গিয়েছে। নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ব্যক্তিগত আপত্তি তুলে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হননি।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এই প্রসঙ্গে যোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন পূর্ণাঙ্গ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে অনেক নাম বাদ গেলেও, “এই তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়েনি অথবা আপত্তিরও কোনও প্রমাণ নেই।” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আদালত সেই সব নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের দেখতে চায়, যারা আপত্তি নিয়ে এসেছেন।
‘নির্বাচন কমিশন কি জড়ভরত ডাকঘর?’
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়ালকারী বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল এর আগে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, একজন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) কখনই তাঁর নাগরিকত্ব ঠিক করে দিতে পারেন না। তাঁর নাগরিকত্ব কেবল ভারত সরকারই ঠিক করতে পারে।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সিবালকে মনে করিয়ে দেন, এসআইআর-এ আপিল করারও প্রক্রিয়া রয়েছে। বিচারপতি বাগচী আরও কড়া যুক্তি তুলে ধরে সিবালকে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি নির্বাচন কমিশনকে জড়ভরত ডাকঘর ঠাউরেছেন? যারা না দেখেশুনেই প্রতিটি নতুন ভোটারের ফর্মে স্ট্যাম্প লাগিয়ে দেবে?”
তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশনের সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে যে তারা সবসময় প্রাপ্ত নথি বিচার করে দেখতে পারে, তা সে এনুমারেশন ফর্ম বা ফর্ম ৬ যাই হোক না কেন। বিচারপতি বাগচী কপিল সিবালকে সরাসরি বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনানুসারে তালিকা সংশোধন করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। তাদের যদি মনে হয়, ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে, তাহলে তারা আইনবলেই তা করতে পারে।