মতুয়াদের পর সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক লক্ষ্যে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ সফরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বনগাঁর সভা থেকে মতুয়াদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার মাত্র একদিনের ব্যবধানে এবার মালদহ ও মুর্শিদাবাদে দুদিনের সফরে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় বড় দুটি রাজনৈতিক সভা করবেন তিনি।

বনগাঁর পর নতুন রাজনৈতিক কৌশল
একুশ এবং চব্বিশের নির্বাচনে মতুয়া ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে যাওয়ায় তৃণমূল নেত্রী প্রথম থেকেই সেই ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছেন। বনগাঁর সভায় তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তৃণমূল থাকতে মতুয়াদের গায়ে আঁচ লাগতে দেবেন না। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার তিনি এমন দুই জেলায় যাচ্ছেন, যেখানে সংখ্যালঘু ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ জটিল।

একসময় মালদহ ও মুর্শিদাবাদ ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কোণঠাসা হলেও মালদহে এখনও একটি লোকসভা আসন ধরে রেখেছে। পাশাপাশি, দুই জেলাতেই বামেরা সক্রিয় এবং বিজেপি দ্রুত নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আইএসএফ (ISF) ও এআইএমআইএম (AIMIM)-এর মতো দলগুলির প্রভাব বৃদ্ধি, যা তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নতুন চিন্তার সৃষ্টি করেছে।

ঘরের ঝামেলা এবং বিতর্কিত মন্তব্য
বাইরের প্রতিপক্ষের চেয়েও বড় সমস্যা দলের ভেতরের কোন্দল। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, যিনি প্রায় প্রতিদিনই নিজের দলের বিরুদ্ধেই আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি করার ঘোষণা করে তিনি নতুন বিতর্কও তৈরি করেছেন। ফলে দুই জেলায় এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে আগামী ৩ ও ৪ ডিসেম্বর দুই দিনের সফরে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩ ডিসেম্বর তিনি মালদহের গাজোলে সভা করবেন এবং সেদিনই সড়কপথে পৌঁছবেন বহরমপুরে। ৪ ডিসেম্বর বহরমপুর স্টেডিয়ামে তাঁর বড় সভা। এই দুই জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো কোন ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে কী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।