দিল্লিতেও বড় ধাক্কা তৃণমূলের! হাতছাড়া হতে চলেছে রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের দলীয় কার্যালয়?

কলকাতার পার্টি অফিস নিয়ে টালবাহানার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের দিল্লির দলীয় কার্যালয় নিয়েও বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। দলীয় সাংসদদের বিদ্রোহের জেরে রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের যে বাংলোটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দিল্লির ‘মুখ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন হাতছাড়া হওয়ার মুখে।
কেন সংকটে দিল্লির অফিস?
এতদিন লোকসভার সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বরাদ্দকৃত সরকারি বাংলোটিই ছিল তৃণমূলের দিল্লির অফিস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর থেকে এই ঠিকানাতেই যাবতীয় দলীয় বৈঠক ও সাংবাদিক সম্মেলন হতো। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমীকরণ বদলে গেছে। খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের ব্লকে যোগ দিয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। স্বাভাবিকভাবেই, নিজের নামে বরাদ্দ এই সরকারি আবাসনটি পার্থ ভৌমিক এখন দলের জন্য আর ছেড়ে দিতে রাজি নাও হতে পারেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টতই ক্ষোভের সুরেই জানিয়েছেন, “পার্থর নামে বাড়ি ছিল। আমি হাউজিং কমিটির সদস্য হিসেবে রিকোয়েস্ট করে ওকে বাড়িটা পাইয়ে দিয়েছিলাম। ও মহান নেত্রী শতাব্দী রায় আর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ওখানে বসে কী করবে, সেটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
ইঙ্গিতপূর্ণভাবে, মঙ্গলবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদ তাঁদের সাংবাদিক বৈঠকটি রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের অফিসে না করে করেছেন কল্যাণবাবুর নিজের সরকারি বাংলোয়, যা থেকে এটা স্পষ্ট যে দলের মূল ধারার নেতাদের সঙ্গে ওই অফিসের দূরত্ব বাড়ছে।
দলে ভাঙনের কি নতুন ধাপ?
পার্থ ভৌমিকের বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের পর, দিল্লির রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাংলোটি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হিসেবে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। এর আগে কলকাতার পার্টি অফিস নিয়ে বাড়ির মালিকের আপত্তির বিষয়টি নিয়ে দল বিব্রত ছিল, এবার দিল্লির অফিস হাতছাড়া হলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে চলেছে।