“এক সপ্তাহে দুই উইকেট!”-রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, জোরদার ধাক্কা খেল মমতার দল!

রাজ্য রাজনীতিতে অস্থিরতা যেন থামছেই না। সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। বুধবার সকালে তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পরপর দুই সাংসদের ইস্তফায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে যাওয়ায় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কেন এই পদত্যাগ?

২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সুস্মিতা দেবকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হতো। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে আসা সুস্মিতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। ত্রিপুরা ও অসমে দলের সংগঠন বিস্তারের গুরুদায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। তবে সেই সময় থেকেই বাংলার ‘আদি’ তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সুস্মিতার উত্থান নিয়ে চাপা ক্ষোভ ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল। সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনই কি এই পদত্যাগের নেপথ্যে—উঠছে সেই প্রশ্ন।

বিজেপির দিকে পাল্লা ভারী

রাজ্যসভায় বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১১-তে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের বিধানসভার বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা যথেষ্ট বেশি থাকায়, শূন্য হওয়া এই আসনগুলোতে পদ্ম শিবিরের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা একপ্রকার নিশ্চিত। অর্থাৎ, সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের শক্তি কমার পাশাপাশি বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল

একদিকে লোকসভায় দলের অন্দরে বিধায়ক-সাংসদদের বিদ্রোহ, অন্যদিকে রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদের ইস্তফা—সব মিলিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চরম সংকটে। দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত নেতাদের এহেন প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে কতটা নাড়িয়ে দেবে, তা নিয়ে এখন সরগরম রাজনৈতিক মহল।