অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য চালকদের হাতে যাত্রী জীবন! লাল সিগন্যাল উপেক্ষা, ৫০ কিমি গতিতে মালগাড়িতে ধাক্কা, মৃত ১১

গত সপ্তাহে ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুরে প্যাসেঞ্জার ট্রেন (মেমু) এবং মালগাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে চালকের গাফিলতির তত্ত্ব উঠে এলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রীবাহী মেমু ট্রেনটি লাল বিপদ সংকেত (রেড সিগন্যাল) অমান্য করেই এগিয়ে যায়, যার ফলেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

চালক ছিলেন ‘মানসিক যোগ্যতা’ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ

তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মেমু ট্রেনটির লোকো পাইলটরা (চালক) মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতার পরীক্ষায় (Psychological/Aptitude Test) পাশই করেননি। যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর আগে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক নিয়ম।

রেল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় নিহত লোকো পাইলট বিদ্যাসাগর কখনওই এই বাধ্যতামূলক মানসিক পরীক্ষা দেননি। শুধু তিনিই নন, বিলাসপুর এবং নাগপুর রেল ডিভিশনের বহু চালক এই পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই প্রতিদিন যাত্রীবাহী ট্রেন চালাচ্ছেন, যা যাত্রী সুরক্ষার জন্য চরম উদ্বেগের কারণ।

পরিসংখ্যান: বিলাসপুর ডিভিশনে মোট ৪২ জন মেমু ট্রেন চালকের মধ্যে মাত্র ৩০ জন মানসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। নাগপুর ডিভিশনে ৫৬ জন চালকের মধ্যে মাত্র ৩৩ জন পাশ করেছেন। অর্থাৎ, দুই ডিভিশনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চালকই মানসিক যোগ্যতার শংসাপত্র ছাড়াই ট্রেন চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে চালকদের মনোযোগ, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এই নিয়ম উপেক্ষা করলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, চালকের গাফিলতি স্পষ্ট:

গতোরা স্টেশন থেকে ট্রেনটি সবুজ সিগন্যাল পেয়ে ৭৬ কিমি গতিতে ছাড়ে।

এরপর পর পর দু’টি হলুদ সিগন্যাল আসে, যা গতি কমানোর নির্দেশ দেয়, কিন্তু চালক গতি কমাননি।

সব শেষে লাল সিগন্যাল দেখানো হলেও ট্রেনটি থামেনি।

কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৫০ কিমি গতিতে ট্রেনটি গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে।

তদন্তে আগেই জানা গিয়েছিল, নিহত চালক বিদ্যাসাগর মাত্র এক মাস আগে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন, ফলে তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, বাঁকা লাইনের কারণে তিনি পাশের লাইনের সিগন্যালটিকে নিজের লাইনের বলে ভুল করেন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু হয়েছে এবং সহকারী রশ্মি রাজ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। রেল মন্ত্রক এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, রেল সেফটি কমিশন সিগন্যাল অমান্যের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মানসিক পরীক্ষার ঘাটতির দিকটিও খতিয়ে দেখছে।