তন্ত্রপীঠ তারাপীঠে মা তারার অঙ্গে কালীর আরাধনা! নিশিকালে বিশেষ পুজো ও শ্মশানে হোম, জেনে নিন কালীপূজার সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট

বাঙালি হিন্দুদের আরেক বড় উৎসব কালীপূজা উপলক্ষে তন্ত্রপীঠ তারাপীঠে মা তারার অঙ্গে কালীর আরাধনা শুরু হয়েছে। কালীপূজার দিন এখানকার মাহাত্ম্য একেবারেই আলাদা, তাই মনস্কামনা পূরণের আশায় প্রতি বছরের মতো এবারও সিদ্ধপীঠে ভক্তদের ঢল নেমেছে।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর ২টো ৫৭ মিনিটের পর থেকে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে। যেহেতু কালীপুজো নিশিরাতে হয়, তাই এই দিন তারাপীঠের শিলাব্রহ্মময়ী মা তারাকে কালীরূপে পুজো করা হবে। রাত ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের পর এই বিশেষ পুজো শুরু হবে বলে খবর।
দিনের বেলার পুজো ও ভোগ:
ভোরে: মা-কে স্নানের পর দেবীর শিলাব্রহ্মময়ী মূর্তিকে রাজবেশে সাজানো হয়। চুনরি পরিয়ে হয় সিঙ্গারবেশ। এরপর পঞ্চ উপাচারে মঙ্গলারতি ও নিত্যপুজো করা হয়।
শীতল ভোগ: ভোরে মা-কে শীতল ভোগ হিসেবে ছোলা, ফল, মুড়কি, সরবত, মিষ্টি, ফল ও মিছরি ভেজানো জল নিবেদন করা হয়।
দুপুরের অন্নভোগ: দুপুরবেলা কিছুক্ষণের জন্য গর্ভগৃহ বন্ধ রেখে মা-কে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। এই দিনের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পোলাও, সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, পায়েস, চাটনি এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্ব হল পোড়া শোল মাছ মাখা। এছাড়াও ছাগ বলির মাংস দিয়ে মায়ের ভোগ হয়।
নিশিকালে বিশেষ আরাধনা:
সারাদিন ভক্তদের আনাগোনা চললেও সন্ধ্যারতির সময় কার্যত তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
সন্ধ্যারতি: এদিন সন্ধ্যাবেলা মা তারাকে বেনারসি শাড়িতে রাজবেশে সাজানো হয়। লুচি, আলুভাজা, সুজি, পাঁচরকম ফল, পাঁচরকম মিষ্টি ও ক্ষীর ভোগ নিবেদন করা হয়। ভক্তরা মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন।
নিশিপূজা: এরপর রাতে তন্ত্রমতে মায়ের নিশিপূজা শুরু হয়। এই সময়ই তারার অঙ্গে কালীর আরাধনা করা হয়। রাতের মায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পোড়া শোল মাছ, ছাগ মাংস, পাঁচরকম তরকারি এবং কারণবারি (মদ)।
এই কালীপূজার রাতে মা তারার সিদ্ধি লাভের আশায় তন্ত্রসাধকরা তারাপীঠ মহাশ্মশানে যজ্ঞ ও তন্ত্র সাধনায় মেতে ওঠেন। সন্ধ্যা নামতেই শ্মশানে শয়ে শয়ে হোমকুণ্ড জ্বলে ওঠে।