মোদী-নীতীশের খাসতালুকে বড় বিপর্যয়! বিজেপির ঐতিহ্যবাহী আসন কেড়ে নিলেন প্রশান্ত কিশোর?

সোমবার বেশ কয়েক দফা গণনার পর জন সুরজ পার্টি (জেএসপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে) বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির নীরজ কুমার সিনহার বিরুদ্ধে নিজের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন এবং জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়েছিল, যেখানে রাজনৈতিক জীবনের প্রথম লড়াইয়ে নেমে বড় চমক দেখাতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর।

দীর্ঘদিন ধরে বাঁকিপুর আসনটি নিতিন নবীনের অপরাজেয় ও ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেই দুর্গে বসেই বর্তমানে চরম পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিজেপি।

কেন হাতছাড়া হলো বিজেপির এই ‘সুরক্ষিত’ ঘাঁটি?
কম ভোটার উপস্থিতি ও বিজেপির উদাসীনতা: বাঁকিপুর উপনির্বাচনে মাত্র ৩৪.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কম ভোট পড়ার কারণে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে বিজেপির মূল ভোটাররা হয়তো ভোটকেন্দ্রে আসেননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল সেই শঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করেছে।

প্রশান্ত কিশোরের সরাসরি লড়াই: ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জনসুরজ পার্টি আশানুরূপ ফল না পেলেও, এই উপনির্বাচনে অন্য কাউকে প্রার্থী না করে প্রশান্ত কিশোর নিজেই বাঁকিপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহসিকতা দেখান।

প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল ও দুর্বল নেতৃত্ব: নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপি অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে মাঠে নামায়। ফলে পিকে-র মতো পোড় খাওয়া নির্বাচনী কৌশলবিদের সামনে তা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবর্তনের হাওয়া ও ক্ষোভ: বাঁকিপুরকে নিজেদের ‘চিরকালের শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে জাহির করার বিজেপির ‘ঔদ্ধত্যকে’ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন পিকে। এই নির্বাচনকে তিনি রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর ওপর একরকম গণভোট হিসেবেও অভিহিত করেন, যা স্থানীয় ভোটারদের প্রভাবিত করে।

ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন এবং পিকের মাস্টারস্ট্রোক
ঐতিহ্যগতভাবে বাঁকিপুরের উচ্চবর্ণের কায়স্থ সম্প্রদায় বিজেপির একচেটিয়া ভোটার হলেও, এই নির্বাচনে সেই সামাজিক সমীকরণে বড় ফাটল ধরেছে। উচ্চবর্ণের একাংশ এবং ওবিসি ভোটাররা বিজেপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি, বিজেপির জয় ঠেকানোর কৌশলে মুসলিম-যাদব ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও আরজেডি শিবির ছেড়ে পিকের ঝুলিতে ভোট টানেন, যা ফলাফলকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

গতানুগতিক রাজনীতি বনাম পিকের কৌশল
প্রচারণার মাঠে প্রথাগত জাতি-ধর্মের রাজনীতির চেয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসেন প্রশান্ত কিশোর। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী পুরনো আবেগকে আঁকড়ে থাকলেও পিকে মহল্লা সভা এবং সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমে বিজেপির সুদৃঢ় সামাজিক সংহতিতে ফাটল ধরাতে সক্ষম হন। পাশাপাশি, শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভকেও নিজের জয়ের সোপান হিসেবে নিখুঁতভাবে কাজে লাগান এই রাজনৈতিক কৌশলবিদ।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *