দীপাবলির সকালেই ট্রাম্পের ‘শুল্ক বোমা’! ‘রাশিয়ার তেল বন্ধ না করলে…’, ভারতকে ফের ভয়ঙ্কর হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

দীপাবলির (Diwali) সকালেই আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ফের একবার ‘শুল্ক হুমকি’তে তোলপাড় আন্তর্জাতিক বাজার। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল (Russian Oil) কেনা অবিলম্বে বন্ধ না করলে ভারতের ওপর আরও “ভয়াবহ শুল্ক” চাপাবে আমেরিকা, বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফের একবার দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর ‘ব্যক্তিগত’ আলোচনা হয়েছে এবং মোদী নাকি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না!
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সোমবার সকালে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) আমাকে বলেছিলেন, যে তিনি রাশিয়ার তেল কিনবেন না। কিন্তু যদি তাঁরা কথা না রাখেন, তাহলে কিন্তু বিশাল শুল্ক দিতে হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ওভাল হাউসে ট্রাম্প প্রথমবার দাবি করেন যে, “প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে।” এই পদক্ষেপকে তিনি “একটি বড় পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ‘অপরাধে’ আগস্ট মাসেই আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও জরিমানা আরোপ করেছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির প্রত্যুত্তরে বৃহস্পতিবারই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দেন, “মোদী এবং ট্রাম্পের বার্তালাপের বিষয়ে জানা নেই।” মন্ত্রক কেবল ভারত ও আমেরিকার মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথাই স্বীকার করে।
অন্যদিকে, মার্কিন শুল্কের ত্রাসের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোর দিয়েছেন ‘স্বদেশী’ নীতির ওপর। দেশবাসীকে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছে সমগ্র গেরুয়া শিবির। সোমবার সকালে দেশবাসীকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর সময়ও মোদীর মুখে সেই একই বার্তা শোনা যায়। মোদী বলেন, “আসুন, ১৪০ কোটি ভারতীয়র কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে এই উৎসবের মরশুম আমরা উদযাপন করি। ভারতীয় পণ্য কিনি এবং বলি – গর্ভ সে কহো ইয়ে স্বদেশী হ্যায় (গর্বের সঙ্গে বলুন, এটা স্বদেশী)! আপনি যা কিনেছেন তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন। এইভাবে আপনি অন্যদেরও একই কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবেন।”
সব মিলিয়ে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার শুল্ক হুমকি এবং মোদীর ‘স্বদেশী’ আহ্বান— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় রাজনীতিতে বিতর্ক আরও বেড়েছে।