শতবর্ষী দিদিমাকে কাঁধে পালকি তুলে ৩০০ কিমি হেঁটে হরিদ্বার যাত্রা! এক অনন্য কাওয়ার শোভাযাত্রায় ভাইরাল পরিবার

শ্রাবণ মাসের পবিত্র কাওয়ার যাত্রা চলাকালীন উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি বিশেষ শোভাযাত্রা বর্তমানে গোটা দেশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল ভগবান শিবের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের প্রতীকই নয়, বরং পরিবার, মূল্যবোধ এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি নিঃস্বার্থ শ্রদ্ধার এক আবেগঘন বার্তা বহন করছে।
পাঞ্জাবের এক পরিবার তাঁদের ১০০ বছরেরও বেশি বয়সী দিদিমা সুনহারি দেবীকে কাঁধে পালকিতে করে হরিদ্বার পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে গঙ্গাস্নান করানোর পর, বর্তমানে পুরো পরিবার প্রায় ৩০০ কিমি পথ হেঁটে বাড়ি ফিরছেন।
জীবন্ত ‘কাঁওয়ার’ হিসেবে ঠাকুমার তীর্থযাত্রা
পরিবারের সদস্যরা তাঁদের এই ১০০ বছরের ঠাকুমাকেই তাঁদের ‘কাঁওয়ার’ হিসেবে গণ্য করে এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু করেছেন। পথিমধ্যে এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই বিশেষ যাত্রায় অংশ নিয়েছেন ঠাকুমার সাতজন নাতি, ছয়জন প্রপৌত্র, পাঁচজন নাতনি, তিনজন প্রপ্রপৌত্রী, দুজন কন্যা এবং একজন নাতি। পুরো পরিবার পালাক্রমে কাঁধে করে পালকিটি বহন করছে। সাহারানপুরের ওপর দিয়ে যখন এই বহর যাচ্ছিল, তখন রাস্তায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পথচারী ও ভক্তদের অনেকেই এই মুহূর্তটিকে নিজেদের মোবাইল ফোনে বন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন।
কেন পালকিতে বসানো হয়েছিল দিদিমাকে?
পরিবারের সদস্য ও দিদিমার নাতি যোগিন্দর কুমার জানান, তাঁদের পরিবার প্রতি বছরই কাওয়ার যাত্রা করে থাকে। তবে এবার ভগবান শিবের বিশেষ আশীর্বাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁরা ঠিক করেন, পরিবারের সবচেয়ে বয়স্কা সদস্য অর্থাৎ দিদিমাকে হরিদ্বারে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় স্নান করাবেন।
যোগিন্দর বলেন, “দিদিমার বয়স একশো বছরের বেশি। বার্ধক্যজনিত কারণে এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য তিনি নিজে হেঁটে এই তীর্থযাত্রা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না। তাই আমাদের পুরো পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করব।”
ভক্তি ও সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত
সাহারানপুরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই কাওয়ার যাত্রা বর্তমান সমাজে ভক্তি, সেবা এবং পারিবারিক বন্ধনের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, পিতামাতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান এবং সেবা করার চেয়ে বড় ধর্ম বা উপাসনা আর কিছু হতে পারে না।