আইফোন উৎপাদনে এবার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ টাটার, চিনকে টপকে বিশ্ব বাজারে ইতিহাস গড়ার পথে ভারত

আইফোন (iPhone) তৈরির ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই চিনকে টক্কর দিতে শুরু করেছে ভারত। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, ভারত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের আইফোন রফতানি করে এক বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে। এই রফতানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই নজরকাড়া প্রবৃদ্ধিতে এবার আরও গতি আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল টাটা গ্রুপ (Tata Group)।
জানা গেছে, ভারতে তৈরি আইফোন রফতানি করে অ্যাপল (Apple) বিপুল লাভবান হচ্ছে। এই সাফল্যই তাদের ভারতে উৎপাদন আরও বাড়াতে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে, টাটাও এই ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হওয়ায় তারা নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহী। টাটার এই পদক্ষেপ আইফোন উৎপাদনে ভারতকে বিশ্বের মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটা সময় ছিল যখন আইফোন তৈরির প্রধান কেন্দ্র ছিল চিন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমেরিকান টেক জায়ান্ট অ্যাপল এখন চিনের উপর তাদের উৎপাদন নির্ভরতা কমাতে চাইছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন শুল্কের মতো একাধিক কারণে অ্যাপল তাদের উৎপাদন ভারতের মতো বিকল্প কেন্দ্রে সরিয়ে আনতে আগ্রহী। অ্যাপলের লক্ষ্য— আগামী বছরের মধ্যেই আমেরিকায় বিক্রি হওয়া সমস্ত আইফোন যাতে ভারতের কারখানা থেকে তৈরি হয়।
বর্তমানে ভারতে তৈরি আইফোনের তিন ভাগের মধ্যে দুই ভাগ আসে তাইওয়ানের ফক্সকনের (Foxconn) কারখানা থেকে। বাকি অংশ তৈরি করে টাটা। তবে, পেগাট্রনের মতো সংস্থার প্ল্যান্ট অধিগ্রহণের পর টাটার উৎপাদন ক্ষমতা যে দ্রুত গতিতে বাড়বে, সেই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিল শাহ বলেছেন, চিনের মতো শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে টাটার এই বড় পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে সেই লক্ষ্যেই ভারতের এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বছর শেষ হওয়ার আগেই ভারত বিশ্বের মোট আইফোন রফতানির প্রায় ২৬ শতাংশ সম্পন্ন করবে, যা বছরের শুরুতে ছিল প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি। টাটার এই কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য পূরণকে আরও নিশ্চিত করছে।