কাবুল হামলার বদলা? তালিবান-পাক সংঘাতের চরম উত্তেজনা, মোতায়েন হলো সোভিয়ের্ট যুগের ক্ষেপণাস্ত্র!

আফগানিস্তান (Afghanistan) ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে আফগান প্রশাসন পাকিস্তান সীমান্তের কাছে সোভিয়ের্ট-যুগের ‘স্কড-বি’ (Scud-B) ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) মোতায়েন করেছে। গত ৯ অক্টোবর, ২০২৫-এ পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগান শহর কাবুল (Kabul) এবং খোস্ত-এ (Khost) বিমান হামলা চালানোর পর আফগানিস্তান এই কঠোর পদক্ষেপ নিল।

‘স্কড-বি’ একটি কৌশলগত ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভুলতা প্রায় ৪৫০-৯০০ মিটার বলে জানা যায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সাধারণত শত্রু পক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু, যেমন—বিমানঘাঁটি, কমান্ড পোস্ট, সেনা সমাবেশ, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি এবং জ্বালানি ভান্ডারে হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক সহায়তা হিসেবে আফগান সরকারকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সরবরাহ করেছিল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের সম্পূর্ণ দখল নেওয়ার পর তালিবান (Taliban) এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ হাতে পায়।

১৯৮৮ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে ‘স্কড-বি’ মোতায়েন করেছিল। সেই সময় তালিবানের ঘাঁটিতে ৪০০-রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও, তারা পিছু হটেনি। শেষমেশ, সোভিয়েতরা পঞ্জশিরের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ফেলে রেখে চলে যায়।

২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর তালিবান এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির সামরিক প্রদর্শনী করে বিশ্বকে তাদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছিল।

গত সপ্তাহে ‘সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান’-এর নামে পাকিস্তান কাবুলে যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, তার পরই এই সংঘাতের সূচনা। তালিবানের দাবি, তারা পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ জন সেনাকে হত্যা করেছে এবং কিছু সেনাকে বন্দি করেছে।

এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) পাকিস্তান ফের আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পাকিস্তানকে কোনও মূল্যেই রেয়াত করা হবে না। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার লম্বা উন্মুক্ত সীমান্ত (Open Border) রয়েছে, যা এই সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।