শুভেন্দুর অভিযোগ সত্যি? সীমান্তবর্তী এলাকায় আবেদনের হার বেশি, রাজ্যের কোথায় কত ফারাক?

আসন্ন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি সামনে এল। বিশেষত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ব্যাপক গড়মিল দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন।

কোথায় কতটা গড়মিল?

জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় এই ফারাক সবথেকে বেশি—২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র এই জেলার ক্ষেত্রেই ভোটারের সংখ্যায় ফারাক ৪৫ শতাংশ। এর চেয়েও বেশি ফারাক দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, যেখানে ভোটারের নামে মিল নেই ৫৫ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার মতো একটি বড় জেলায় ৪৫ শতাংশের ফারাক হওয়াটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। দেখা গিয়েছে, ২০০২ সালে এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, এমনকি বাবা-মায়ের মৃত্যু হলেও তাঁদের নাম ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় এখনও রয়েছে, যা বাদ যায়নি।

অন্যদিকে, রাজ্যের অন্যান্য জেলায় কিছু গড়মিল দেখা গেলেও তার হার তুলনামূলকভাবে কম। যেমন:

জেলা ভোটারের নামের মিলের শতাংশ (২০০২ বনাম ২০২৫)
পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ৫১.৩৬ শতাংশ
আলিপুরদুয়ার ৫৩.৭৩ শতাংশ
পশ্চিম মেদিনীপুর ৬২ শতাংশ
কালিম্পং ৬৯.২৭ শতাংশ
পুরুলিয়া ৬১.৬৯ শতাংশ
কলকাতা উত্তর ৫৫.৩৫ শতাংশ
মালদহ ৫৫.৪৫ শতাংশ

Export to Sheets
এইসব ক্ষেত্রে ভোটারের মৃত্যু, পরিযায়ী শ্রমিক বা ঠিকানা বদলের কারণে কিছু ফারাক স্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মালদহ, মুর্শিদাবাদ নিয়ে সব থেকে বেশি অভিযোগ উঠলেও ফারাক সব থেকে বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার ক্ষেত্রেই।

ভোটার তালিকার এই অসঙ্গতি নিয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলার ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, সীমান্ত এলাকায় প্রথম সপ্তাহেই ৭০ হাজারেরও বেশি ফর্ম জমা পড়েছে, যা সাধারণত ২০-২৫ হাজার থাকে।

অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য প্রশাসন বেআইনিভাবে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বাংলায় যেভাবে আবেদন জমা পড়েছে, তাতে গোটা রাজ্যের তুলনায় সীমান্তবর্তী এলাকাতেই আবেদনের হার বেশি বলে জানা যাচ্ছে।