রহস্যময় স্পিতি! ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে রাতারাতি ‘হটস্পট’, লুকিয়ে আছে কোন বিস্ময়?

লাহুল-স্পিতি ভ্যালি—এক নামেই পরিচিত ভ্রমণপিপাসু মহলে। তবে এর আসল পরিচয় অনেকেই জানেন না। এটি আসলে এক ‘ঠান্ডা মরুভূমি’! আপাতদৃষ্টিতে মরুভূমি হলেও এখানে সর্বক্ষণ বিরাজ করে হিমশীতল পরিবেশ। আর এবার এই আশ্চর্য ভূমিই পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। হিমাচল প্রদেশের এই স্পিতি ভ্যালিকে (Spiti Valley) দেশের প্রথম ‘কোল্ড ডেজার্ট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ হিসেবে চিহ্নিত করল ইউনেস্কো (UNESCO)।
চীনের হাংঝৌ প্রদেশে সম্প্রতি আয়োজিত ৩৭তম ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটিং কাউন্সিল (ICC) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার নেটওয়ার্ক’-এ ভারতের বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।
যে সমস্ত অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়, ইউনেস্কো সেগুলিকে ‘বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। স্পিতির এই ঠান্ডা মরুভূমির ভূখণ্ড প্রায় ৭৭০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে ৭,৫৯১ বর্গ কিলোমিটার স্পিতি ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের আওতাভুক্ত। বরচালা পাস, সারচু, ভরতপুরের মতো স্থান এবং লাহুলের বনাঞ্চলও এর সঙ্গে সংযুক্ত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৩০০ থেকে ৬৬০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভূখণ্ডে রয়েছে পর্বত ও সমতলভূমির বৈচিত্র্য। এই বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী উভয়ই বিশেষভাবে সংরক্ষিত হবে। পাশাপাশি, এই সংরক্ষণের কাজ যাতে মানব জীবনে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে। স্পিতি ভ্যালির কিছু অংশে রয়েছে কোর জোন এবং তার বাইরে রয়েছে বাফার জোন।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ভারতের অন্যান্য বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভগুলি হল: নীলগিরি, গালফ অফ মান্নার, সুন্দরবন, নকরেক, নন্দা দেবী, গ্রেট নিকোবর, সিমলিপাল, পাচমারি, আচানকমার-অমরকণ্টক, আগস্ত্যমালাই, কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং পান্না।
ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য স্পিতি ভ্যালি এক অনন্য গন্তব্য। এখানকার কীবর ও তাবো মঠ, চন্দ্রতাল লেক, পাইন ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক এবং কাজা-র মতো স্থান পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়াও, বর্তমানে রাতের আকাশে ‘স্টারগেজিং’ বা তারাদের দেখার দৃশ্যের জন্যেও স্পিতির কদর বাড়ছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ মন ভালো করার জন্য আদর্শ।