দেশের কৃষিক্ষেত্রকে উজ্জীবিত করতে মোদীর জোড়া প্রকল্প, হাওড়াতেও শুরু নতুন পরিকল্পনা

দেশের কৃষিক্ষেত্রকে নতুন দিশা দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালু করেছেন। এর লক্ষ্য হলো কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা এবং কৃষি উদ্ভাবনে নতুন যুগের সূচনা করা। এই দুই প্রকল্পের সুফল হাওড়া জেলাসহ দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে দেশের কৃষিক্ষেত্রের বিকাশে ৪২ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পগুলির সূচনা করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলি স্বনির্ভরতা, গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
চালু হলো ‘ধনধান্য’ ও ‘ডাল স্বনির্ভরতা মিশন’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে দু’টি মূল প্রকল্প চালু করেছেন তা হলো— ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা’ এবং ‘ডাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা মিশন’।
বিধানচন্দ্র কৃষি বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ শিক্ষা অধিকরণের সহ অধিকর্তা ডাঃ অমিতাভ ব্যানার্জী জানান, এগুলির মূল লক্ষ্য হলো:
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
শস্যের বৈচিত্র্য আনা।
ডালের মতো শস্যের উৎপাদন বাড়িয়ে সেগুলিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করা।
উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করা।
বরাদ্দ এবং হাওড়ার কৃষকদের জন্য সুবিধা
এই দুই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা’র জন্য ২৪,০০০ কোটি টাকা এবং ‘ডাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা মিশন’-এর জন্য ১১,৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
হাওড়া কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র তথা বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক ডাঃ কিরণময় বাড়ুই আশাবাদী যে, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ডঃ কৌশিক নাগ জানান, নির্বাচিত জেলাগুলিতে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে, যা বিশেষত ডাল উৎপাদন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
গ্রামীণ এলাকায় কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এই নতুন প্রকল্পগুলি আগামী দিনে এক বড়সড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।