‘রামের চেয়ে রাবণকেই ভালো লাগে!’ লঙ্কারাজকে ‘জেন্টলম্যান’ বলে ট্রোলের মুখে শোলাঙ্কি

বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ শোলাঙ্কি রায়। ছোটপর্দা থেকে শুরু করে বড়পর্দা এবং বিভিন্ন ওয়েব সিরিজে নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন এই মিষ্টি মুখের নায়িকা। সাধারণত যাবতীয় বিতর্ক থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রাখতেই পছন্দ করেন তিনি। তবে অনেক সময় অজান্তেই তাঁর কোনো মন্তব্য বা মতামত ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। এমনিতে পেশাগত জীবনে স্পষ্টবক্তা হিসেবেই পরিচিত শোলাঙ্কি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে শুরু করে ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। আর সেখানেই রামের পরিবর্তে রাবণকে প্রশংসায় ভরাতে গিয়ে নেটপাড়ার একাংশের তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী।
ঠিক কী বলেছেন শোলাঙ্কি? ওই পডকাস্টে অভিনেত্রীকে তাঁর রাবণ-প্রীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রামের চেয়ে রাবণকেই তাঁর অনেক বেশি ভালো লাগে। শোলাঙ্কির যুক্তি, রাবণ আক্ষরিক অর্থেই একজন ‘জেন্টলম্যান’। কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর অনিচ্ছায় রাবণ তাঁকে স্পর্শ করেননি কিংবা তাঁর সম্মানহানি করেননি। এহেন নীতিবোধ এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কারণেই লঙ্কারাজ রাবণকে একজন বিনম্র ও আদর্শবান পুরুষ বলে মনে করেন অভিনেত্রী। আর পডকাস্টের সেই অংশটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হুড়মুড়িয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বাল্মীকি রামায়ণের পৌরাণিক প্রেক্ষাপটে রাবণ বরাবরই একটি নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে পরিচিত। छल করে সীতাকে অপহরণ করা থেকে শুরু করে তাঁকে আটকে রাখা এবং রামের সঙ্গে যুদ্ধ—এই সমস্ত ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে রাবণ খলনায়ক হিসেবেই গণ্য হন। সেখানে দাঁড়িয়ে শোলাঙ্কির মুখে রামনামের পরিবর্তে রাবণের প্রশংসাবাক্য শুনে স্বাভাবিকভাবেই চটেছেন নেটিজেনদের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক নেটনাগরিক লিখেছেন, “অল্প বিদ্যা ভয়ংকর, আগে রামায়ণটা ভালো করে পড়।” কেউ আবার খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “যাদবপুরের গেট টপকালে এসবই শেখা যায়।” ইতিহাস না জেনেই এমন মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি করে অনেকেই অভিনেত্রীর পড়াশোনা ও জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পাশাপাশি, শোলাঙ্কির এই মন্তব্যের জেরে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রামকে এড়িয়ে রাবণকে মহিমান্বিত করার এই ট্রেন্ডের নেপথ্যে তাঁর বামমনস্ক আদর্শকেই দায়ী করছেন সমালোচকরা। প্রসঙ্গত, শোলাঙ্কি যে বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী, তা তিনি অতীতেও একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। ওই পডকাস্টেও শোলাঙ্কি অকপটে স্বীকার করেছেন যে তিনি বামপন্থী এবং তাঁর এই বিশ্বাস বা মতাদর্শ ভবিষ্যতে বদলাবে না। আর এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই নেটপাড়ার একাংশের নিশানায় পড়েছেন অভিনেত্রী।