গাজা শান্তি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব, মোদির বদলে যোগ দিচ্ছেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও মানবিক সংকটের অবসানের লক্ষ্যে মিশরের শার্ম আল-শেখ শহরে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’। আমেরিকা ও মিশরের যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দেবে ভারত (India)। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকছেন না, তাঁর পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা ছিল, কারণ কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও দিল্লি বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
কূটনৈতিক অস্বস্তি সত্ত্বেও ভারতের যোগদান
এই সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের মধ্যে শুল্কবোমা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই আবহে গাজা শান্তি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
যা যা আলোচনা হবে সম্মেলনে
সোমবার বিকেলে ট্রাম্প ও আল-সিসির যৌথ সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-সহ ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন।
সম্মেলনে মূলত গাজার শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়ে গাজার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে, ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে পারছেন।
হামাসের অবস্থানে ফের আশঙ্কার মেঘ
ভারত যদিও ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিকে আগেই সাধুবাদ জানিয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামাস ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে সই করবে না বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি, গাজা ছেড়ে যাওয়ার শর্ত একেবারেই ‘অযৌক্তিক’।
ফলে যুদ্ধবিরতির মাঝেই হামাসের এই অনমনীয় অবস্থান শান্তি প্রচেষ্টাকে আবারও ব্যর্থ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্মেলনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে পশ্চিম এশিয়ার আগামীর রাজনৈতিক ভারসাম্য।