রেলের মামলায় লালু পরিবারের মহাবিপদ! দুর্নীতির অভিযোগে বিপাকে লালু-রাবড়ি-তেজস্বী, বিচার শুরুর নির্দেশ আদালতের

লালু প্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী এবং তাঁদের পুত্র তেজস্বী যাদবের জন্য আরও একটি মামলায় সোমবার বড়সড় ধাক্কা দিল দিল্লির আদালত। রেলের দুটি হেরিটেজ হোটেল বেসরকারি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল টাকার নয়ছয়ের অভিযোগে সিবিআইয়ের (CBI) দেওয়া চার্জশিটে মান্যতা দিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলার জেরে সরকারি কোষাগারের বিশাল ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিচারক। বিহারের রাজনীতিতে, বিশেষত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে, এই রায় আরজেডি-সহ (RJD) গোটা বিরোধী শিবিরের উপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করল।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই তালিকায় ছিল ভারতীয় রেলও। অভিযোগ, লালু প্রসাদ রেলমন্ত্রী হিসেবে রাঁচি এবং পুরীর দুটি ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ হোটেল বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেন। এই হস্তান্তরের বিনিময়ে লালু প্রসাদ, তাঁর স্ত্রী রাবড়ি এবং ছোট ছেলে তেজস্বী আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। সিবিআই তদন্তে উঠে আসে, হোটেল দুটির ক্রেতা সংস্থাটি পাটনায় প্রায় ৩ একর জমি লালু প্রসাদের নামে লিখে দিয়েছিল।

কয়েক মাস আগেই এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিট জমা দিয়েছিল। আদালতের সোমবারের ঘোষণার পর বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন বিরোধী জোট আরজেডি বড় ধরনের চাপের মুখে, তেমনই অন্যদিকে বিজেপি-সহ এনডিএ শরিকদের অবস্থান আরও শক্ত হলো।

এই মুহূর্তে তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেই বিহারে বিরোধী মহাজোট ইন্ডিয়া (INDIA) লড়বে বলে ঠিক হয়েছে, যদিও কংগ্রেস এখনও তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে আগামী মাসের ৬ ও ১১ তারিখে দু’দফায় ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা করেছে। ঠিক এমন এক সময়ে দুর্নীতির আরও একটি মামলায় তেজস্বীর নাম জড়ানো ও আদালতের বিচার শুরুর নির্দেশ জারির ঘটনা নিঃসন্দেহে আরজেডির অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।

রেলের এই মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে লালু, রাবড়ি এবং তেজস্বী বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। এই সফরের মধ্যেই তেজস্বীর সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের সোমবারের নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সেই বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হলো।