চিটফান্ডের সম্পত্তি বেদখল! বহরমপুরে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিল হাইকোর্ট কমিটি

চিটফান্ডের টাকায় কেনা বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেদখল হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবার তেমনই একটি সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের খবর সামনে আসায় মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জবরদখল করে এই নির্মাণ বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় থানাকে চিঠি দিল প্রতারিত আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত এসপি তালুকদার কমিটি।
সাম্প্রতিককালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে চিটফান্ডের টাকায় কেনা জমি দখল করে পুরসভার তরফে প্রকল্পের কাজ চলছিল, যা কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বহরমপুরে একই অভিযোগ উঠল।
বহরমপুরের বনজেঠিয়া মৌজায় প্রায় ১৫৮ ডেসিমেল জায়গা দখল করে বেআইনি নির্মাণ চলছে বলে অভিযোগ আসার পরই তৎপর হয় এসপি তালুকদার কমিটি। সেই অভিযোগ পেয়ে তারা মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানাকে চিঠি লিখে জরুরি ভিত্তিতে সেই বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আমনাতেকরীদের তরফে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম দাস প্রথম এই দখলদারি নিয়ে প্রশাসন ও এসপি তালুকদার কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আইনজীবী অরিন্দম দাস এই প্রসঙ্গে বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, “প্রায় এক দশক আগে চিটফান্ড স্ক্যাম সামনে আসার পর অন্যান্য সংস্থার মতো র্যামেল গ্রুপের এই সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে তালুকদার কমিটির জিম্মায় যায়। কিন্তু প্রশাসনিক লাল ফিতের ফাঁস এবং দীর্ঘসূত্রিতার জন্য সেই সব সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি না হওয়ায় তা দখলদারদের নজরে পড়ছে।”
তিনি স্পষ্ট বলেন, এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই আমানতকারীরাই। তাই আমানতকারীদের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তিগুলো বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রতারিতদের টাকা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ না করে উলটে বিভিন্ন জায়গায় চিটফান্ডের সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।