বাংলাদেশ থেকে সোনালি বিবিকে ফেরাতে হবে, হাইকোর্টের রায়ে ধাক্কা কেন্দ্রের, কুণাল ঘোষের দাবি অমিত শাহ ক্ষমা চান

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরে একাধিক দুর্গাপূজার উদ্বোধনের দিনেই বাংলাদেশে পুশব্যাক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গায়ে আরও একবার ‘বাংলা বিরোধী’ তকমা সেঁটে দিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, মা দুর্গার সামনে বাংলার মহিলাদের কাছে শাহের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
হাইকোর্টের রায়ে প্রমাণিত ‘কেন্দ্র অমানবিক’
ঘটনার সূত্রপাত ২৬ জুন, যখন দিল্লির রোহিণী এলাকা থেকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি-সহ ছয় পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার অভিযোগ তুলে বাংলাভাষী হওয়ায় তাঁদের অসমের ইন্দো-বাংলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালি বিবি-সহ ছ’জনকেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের রায় নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার কতটা অমানবিক। এরপরেও কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতেই প্রমাণিত, ওরা বাংলা বিরোধী। ওরা নারীদেরও বিরোধী। হাইকোর্টের এই রায়ের পর অমিত শাহের উচিত বিবৃতি দিয়ে প্রকাশে দুঃখপ্রকাশ করা।”
“মা দুর্গা নয়, অসুরের দিকে তাকিয়েছিলেন শাহ”
অমিত শাহ এদিন কলকাতায় এসে বলেছিলেন, তিনি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেছেন, এবার যেন তাঁরা এই রাজ্যে সরকার গড়তে পারেন এবং সোনার বাংলা গড়ে দেবেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করেন।
কুণাল বলেন, “মা দুর্গার দিকে নয়, এই প্রার্থনা করার সময় তিনি অসুরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বাংলায় অসুরের সরকার হবে না। আর সোনার বাংলা সোনারই রয়েছে।”
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা হাইকোর্টের রায় নিয়ে অমিত শাহকে আক্রমণ করে বলেন, “যাঁরা বাংলার সন্তান, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক, তাঁদের দিল্লির অশুভ শক্তিরা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিল। দেবীপক্ষের শুরুতে হাইকোর্টের এই রায় যেন দেবী অসুর বধ করেছেন।” তিনি শাহের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “বাংলার ভাষাকে আক্রমণ করছে তাঁর দল, আর আজ সেই ভাষাতেই তিনি বক্তৃতা দিলেন।”
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। তাহলে অনুপ্রবেশের দায় তো তাদেরই! অমিত শাহ হাতজোড় করে যেভাবে আজ মা দুর্গার মূর্তির সামনে দাঁড়াচ্ছেন, ঠিক একইভাবে তাঁকে সোনালি বিবির সামনে দাঁড়াতে হবে।”